শিরোনাম দেখে চমকে ওঠার কিছু নেই। জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী ওরফে সুভাষ ওরফে শান্ত ওরফে টাইগার ওরফে আদিল ওরফে জাহিদ- ইত্যাদি অনেক নামের আড়ালে এই মানুষটি ছিলেন নব্য জেএমবি’র হৃৎপিণ্ড বা প্রাণস্পন্দন।
ইতিমধ্যে তার সম্পর্কে পাওয়া তথ্য সেই বিষয়েরই ইঙ্গিত বহন করে।
উত্তরাঞ্চলের নব্য জেএমবি’র এই শীর্ষ কমান্ডার ২২টি হত্যায় তার সংশ্লিষ্টতার কথা ইতিমধ্যে স্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি ছিলেন গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী। ওই হামলার সময় তিনি ঢাকায়ই অবস্থান করছিলেন। এমনকী, কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশি অভিযানের সময় তিনি কল্যাণপুরেরই অন্য একটি স্থানে অবস্থান করছিলেন। পুলিশি অভিযান শেষে তিনি উত্তরাঞ্চলে তার মূল আস্তানায় ফিরে যান।
রাজীব গান্ধীর বাবার নাম মাওলানা ওসমান গণি মণ্ডল, মা রাহেলা খাতুন। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রাঘবপুর (ভূতমারা ঘাট) গ্রামে তার বাড়ি। তিনি ছিলেন হলি আর্টিজান হামলার মাস্টারমাইন্ড ও নব্য জেএমবি’র শীর্ষ দুই নেতা তামিম চৌধুরী ও মারজান এর অন্যতম ঘনিষ্ঠ। নানা অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের আনাচে-বানাচে। দাওয়াতী কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন সদস্য সংগ্রহ, অস্ত্র সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সরবরাহ, নতুন রিক্রুটদের ট্রেনিং- এসব তিনিই দেখভাল করতেন। আর এ কারণেই তাকে নব্য জেএমবি’র ‘হার্ট’ বা ‘হৃৎপিণ্ড’ বলা হতো।
রাজীব ছিলেন হলি আর্টিজানে হামলায় নিহত জঙ্গিদের মূল সামরিক প্রশিক্ষক। সাতক্ষীরা থেকে দিনাজপুর- রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া এবং গাইবান্ধার বিস্তৃত চরাঞ্চলে চলত এই সামরিক প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের দিয়ে নানারকম হামলার ছক কষতেন বসে তামিম ও মারজান এর সঙ্গে। তার অন্যতম আর একটি অ্যাসাইনমেন্ট ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা। তৃণমূল পর্যায়ে এই হামলা চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মনোবল ভেঙে দেওয়া ছিল তার অন্যতম উদ্দেশ্য। এবং এই উদ্দেশ্যে তিনি বেশ সফলও হয়েছিলেন।
গতকাল শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রাজীবকে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এর একটি বিশেষায়িত দল তাকে আটক করে। এ প্রসঙ্গে সিটিটিসি’র প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, রাজীব গান্ধীর দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
