তরুন লেখক এবং কলামিস্ট মাহবুব নাহিদ
মাহবুব নাহিদ :
জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে? জন্ম মাত্রই প্রতিটি প্রাণীর মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এটা একটা চিরন্তন সত্য কথা। এই কথা অস্বীকার করার সুযোগ নাই। প্রত্যেক ধর্ম বর্ণ জাতির জন্য একই নিয়ম। পৃথিবীতে প্রতিদিন কত মানুষই তো মারা যায়। আমরা হয়তো সবাইকে চিনিও না। কিন্তু যার স্বজন হারায় সে জানে কতটা কষ্ট আপনজন হারালে! এমনই একটি সংবাদ পৃথিবীর বুকে বয়ে আনলো। ফুটবলের রাজা দিয়েগো ম্যারাডোনা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন। লাখো কোটি ভক্ত সমর্থকদের কাঁদিয়ে অকালেই বিদায় নিয়েছেন ম্যারাডোনা।
আসলে পৃথিবীতে সকল মানুষই তার নির্দিষ্ট জীবনসীমা নিয়ে আসে। অকালমৃত্যু বলতে হয়তো কিছুই নাই। কিন্তু কত মানুষ তো অনেক অনেক বছর বেঁচে থাকে। সেখানে ম্যারাডোনা বিদায় নিলেন মাত্র ৬০ বছর বয়সে। এই বয়সে তো অনেকে জীবনকে নতুন করে সাজানোর চিন্তাও করে। এই বয়সে মানুষ কর্মক্ষেত্র থেকে বের হয়ে এসে নতুন এক জীবনে প্রবেশ করে। আর সেই বয়সেই সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন ম্যারাডোনা।
আসলে বিষে বিষে বিষাক্ত হয়ে গেছে এই ২০২০ সাল। বছরের শুরুতে কত না আড়ম্বরপূর্ণ উদযাপনের মাধ্যমে আমরা বরণ করেছিলাম এই বছরকে। কিন্তু সেই বছরেই পৃথিবী হয়ে উঠলো এক ভয়ংকর মৃত্যুপুরী। মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিচ্ছে আমাদের প্রিয়জনরা। দিনে দিনে বড়োই হচ্ছে সেই মিছিল।
ম্যারাডোনা চলে গেছেন। তিনি আর্জেন্টিনার নাগরিক ছিলেন। বিশ্বকাপ জিতেছেন আর্জেন্টিনার হয়ে। খেলেছেন বোকা জুনিয়র্স, ন্যাপোলি, বার্সেলোনার হয়ে। কিন্তু তিনি জয় করেছিলেন সারা পৃথিবীর মানুষের মন। তিনি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছিলেন সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে। খেলাধুলার গণ্ডি পেরিয়ে তিনি হয়েছিলেন সার্বজনীন। তাইতো এই দক্ষিণ এশিয়ায়ও তার এত ভক্ত। খেলা দেখেননি, খেলা বোঝেনা এমন মানুষও কেঁদেছে এই মানুষটার জন্য। সবুজ ঘাসের উপর দুই পায়ের যাদুতে তিনি মুগ্ধ করেছেন সবাইকে। চোখধাঁধানো ড্রিবলিং আর ভুবনভোলানো দৌঁড় এখনো সবার চোখে লেগে আছে। তাঁর মতো জীবন্ত এক কিংবদন্তীকে স্বচক্ষে দেখার অনুভূতি শুধু তারাই বলতে পারবেন যারা তাঁর খেলা নিজ চোখে দেখেছেন। আমরা বর্তমান সময়ে লিওনেল মেসির যাদু দেখে যেমন মুগ্ধ হই তেমনি আমাদের আগের প্রজন্ম দেখেছেন ম্যারাডোনার যাদু। এখন যেমন মেসির পায়ে বল গেলে চারপাশ দিয়ে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়েরা ঘিরে ধরে তেমনি তাঁর ক্ষেত্রেও ঘটতো। ফুটবল যদিও ১১ জনের খেলা কিন্তু তিনি একা খেলতেন ১১ জনের মতো, একা লড়াই করতেন ১১ জনের বিপক্ষে।
কে সেরা ম্যারাডোনা নাকি পেলে? এই নিয়ে বিতর্ক আজীবন থাকবেই। হয়তো পেলে আজ চোখের জলে ভাসিয়ে দিচ্ছেন তাঁর সময়কে। তিনি আজ হয়তো আর ভাবছেন না যে কে সেরা! পেলে বলেছেন, একদিন আমরা স্বর্গে একসাথে ফুটবল খেলব। পেলে ম্যারাডোনার সাথে মেসির নামও উচ্চারিত হয়। সর্বকালের সেরা দাবী করা হয় এই তিনজনকেই। তবে ম্যারাডোনা বা পেলে নিজেরা কিন্তু নিজেদেরকেই সেরা দাবী করেছেন। ম্যারাডোনা বলেছিলেন, “Pele I’m before you” আসলেই কথাটা আজ সত্যি হয়ে গেল। ম্যারাডোনা আগেই চলে গেলেন। পেলের আগেই বিদায় নিয়ে গেলেন। শোকে আপ্লুত করে দিয়ে গেলেন পুরো পৃথিবীকে।
ম্যারাডোনা তাঁর খেলার যাদুর পাশাপাশি অনেকটা পাগলাটেও ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি যথেষ্ট উদাসীন ছিলেন। বিভিন্ন ধরনের বিষয়ের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। তবে তার অকাল মৃত্যু অবশ্যই সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের প্রতি একটা গুরুত্ব দেয়। তিনি যত যাই ছিলেন সেটাই ছিল তার বৈশিষ্ট্য। এই দিকগুলো আরো বেশি মানুষকে আকৃষ্ট করতো। মাদকের জন্য অনেক কিছুই হয়েছে তার। আর বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন কিনা সেটা জানার জন্য গোলবারে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর সেই ফুটবল বিশ্বের সেরা কষ্টের ছবির মধ্যে একটি। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। চেয়েছিলেন আবারো জিততে কিন্তু পারেননি। ভাগ্য আর নিয়তি তাঁকে সেই সুযোগ দেয়নি। পারেননি কোচ হয়েও জিততে। চেয়েছিলেন মেসির হাতে একটা বিশ্বকাপ দেখবেন, তাও পারেননি। হয়তো মেসি একদিন বিশ্বকাপ জিতবেন কিংবা আকাশী সাদা জার্সিতে বিশ্বকাপ জিতবে আর্জেন্টিনা কিন্তু গ্যালারিতে বুনো উল্লাস দেখা যাবে না ফুটবল রাজার।
অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তামিলের জনপ্রিয় তারকা ধানুশের সিনেমা। বহুল প্রতীক্ষিত এ সিনেমার নাম ‘জগমে…
অনেক প্রতীক্ষার পর অবশেষে গত ২৬ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে সালমান-দিশা জুটির বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রাধে…
প্রভুদেবা পরিচালিত এবং সালমান খান অভিনীত ব্যাপক আলোচিত সিনেমা ‘রাধে’র ট্রেইলার মুক্তি পেয়েছে বৃহস্পতিবার (২২…
জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের…
সিরিজের প্রথম টেস্টে সমানে সমান লড়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।…
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় দেশে…