আমরা অনেকেই চুল পড়া রোধে এমন সব পণ্য ব্যবহার করি যেগুলো উপকারের চেয়ে বরং ক্ষতির পরিমাণ বেশি করে থাকে। সৌভাগ্যক্রমে এ সমস্যার এমন কিছু জাদুকরী ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে যা আপনি রাসায়নিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো মধ্যে একটি চিকিৎসা হলো পেয়ারা পাতার ব্যবহার।
পেয়ারাতে রয়েছে ভিটামিন সি, ফাইবার, পটাসিয়াম এবং লাইকোপিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। আর, পেয়ারা পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, অ্যানালজেসিক এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াসহ নিরাময়ের বৈশিষ্ট্য।
পেয়ারা পাতা চুল পড়া রোধে এবং চুলের বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর এবং মাথার ত্বক সুরক্ষায় অবদান রাখে। পেয়ারা পাতার ব্যবহার চুলকে নরম ও সুন্দর করে তুলতে পারে। তবে যারা চুল পড়া সমস্যায় ভুগছেন তারা পেয়ারা পাতা ব্যবহারে করে সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন।
চুলের জন্য পেয়ারা পাতার নির্যাস প্রস্তুতপ্রণালী:
১. একটি পাত্রে ৪ কাপ পানি নিন। ২. চুলার উপরে পাত্রটি রাখুন এবং এটি ফুটতে দিন। ৩. পানি ফুটে উঠলে এক মুঠো পেয়ারা পাতা দিন। ৪. ২০ মিনিট ধরে ফুটতে দিন। ৫. নির্যাসটি ছেঁকে নিন। ৬. তরলটি ঠাণ্ডা হতে দিন।
পেয়ারার পাতার নির্যাসটি অবশ্যই পরিষ্কার চুলে ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। তারপর চুলগুলিকে ছোট ছোট ভাগে আলাদা করে নিয়ে তুলার সাহায্যে মাথার ত্বকে নির্যাসটি প্রয়োগ করুন। আপনার সমস্ত চুল গোঁড়া থেকে আগা অবধি পেয়ারা পাতার তরল নির্যাসে ভিজিয়ে নিতে হবে।
এরপর যদি ইচ্ছা হয় তবে ১০ মিনিট মতো মাথার ত্বক ম্যাসাজ করতে পারেন। ২ ঘণ্টা পর চুল ধুয়ে ফেলতে পারেন বা সারা রাত রেখে দিতে পারেন। কেবল মাথায় একটি তোয়ালে জড়িয়ে রাখুন। চুল থেকে ভালভাবে দ্রবণটি ধুয়ে ফেলতে ঈষদুষ্ণ গরম পানি ব্যবহার করুন।
চুল পড়া বন্ধ করতে সপ্তাহে ৩ বার পেয়ারা পাতার দ্রবণটি টাটকা তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে, যদি চুল দ্রুত লম্বা করতে চান বা মজবুত ও চকচকে চুল চান, তাহলে সপ্তাহে ২ বার তরলটি ব্যবহার করুন।
