১৬ই অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | দুপুর ২:৫৪

জাদুবাস্তবতা : বাংলার ত্রস্ত নীলিমা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

অরুণাভ বিলে

বাংলার কাব্য জগতে সবচেয়ে উজ্জ্বলতম নামটা জীবনানন্দ দাশ, জীবনানন্দ দাশ সাহিত্যের ইতিহাসে সবচেয়ে কুহেলিকাময় চরিত্র। প্রচণ্ড আত্মকেন্দ্রিক, তিনি পড়তেন যতো বেশি বলতেন ততো কম, লিখতেন যতো বেশি প্রকাশ করতেন তার থেকেও আরও কম। তাইতো তার রচিত তিন হাজারের মতো কবিতা তিনি প্রকাশ করেছেন মাত্র ১৬৩টি। উপন্যাস তো প্রকাশই করেননি। তার মৃত্যুর পরে ট্রাঙ্ক ঘেঁটে সেসব উদ্ধার করা হয়। তার রূপসী বাংলা কাব্য গ্রন্থ ১৯৩৪ সালের দিকে লেখা ‘ত্রস্ত নীলিমা’ পাণ্ডুলিপিটির পরিবর্তিত নাম হিসাবে প্রথম প্রকাশিত হয় তার মৃত্যুর প্রায় তিন বছর পরে ১৯৫৭ সালে। সেসব ইতিহাস জীবনানন্দ প্রেমীদের জানা। তাই সেসব জানা ইতিহাসে না গিয়ে আমি হারাতে চাই তার কাব্যের গহীন অরণ্যে।

রূপসী বাংলা কাব্য গ্রন্থটির জন্যই তাকে ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। কিন্তু জীবন বাবুর কবিতায় যে প্রকৃতি প্রেম তা শুধুই প্রকৃতির প্রতি প্রেম নয়, প্রকৃতির রূপকে আশ্রিত হয়ে জীবন, জগতকে অনুসন্ধান করার তীব্র প্রয়াস। রূপসী বাংলার কবিতাগুলো পাঠ করলে প্রথমে মনে হবে কবি শুধু প্রকৃতির কথাই বলেছেন, আমরা যা দেখতে পাই তাই নিয়েই লিখেছেন চতুর্দশপদী কাঠামোতে। কবি তার কবিতার ছন্দ কাঠামোতে বেঁধেছেন ঠিকই, কিন্তু ভাব এবং দর্শনের কোন কাঠামো রাখেননি, বরং তা ছড়িয়ে দিয়েছেন নক্ষত্র থেকে নক্ষত্ররাজিতে, যেমনি করে গাঙুরের জলে ভেলা ভেসেছিল স্বর্গের দিকে, কাঠামোর মধ্যে তিনি ভেঙ্গে দিয়েছিলেন চিন্তার কাঠামো, পরিব্যাপ্ত করেছিলেন দার্শনিক তত্ত্ব।

পৌরাণিক দেবতা পবন দেবের পুত্র হনুমান যেমন প্রয়োজনে বিশাল দেহ ধারণ করতে পারতেন, তেমনি ‘রূপসী বাংলার’ কবিতাগুলোও কাঠামোর গণ্ডি ভেঙ্গে ভাবে, রূপকে, দর্শনে সেই বিশাল রূপ ধারণ করতে পারে। তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে জাদুবাস্তবতা, জীবনানন্দের জাদুবাস্তবতা।

জাদুবাস্তবতাবাদ নামটি সাহিত্যতত্ত্বে বিংশ শতকীয় সংযোজন হলেও সাহিত্যে এর ব্যবহার বহুপ্রাচীন। ‘রামায়ণ’, ‘মহাভারত’ প্রভৃতি প্রাচীন মহাকাব্যগুলোকেও জাদুবাস্তবতার আলোকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। জাদুবাস্তবতাবাদের সাথে অনেকের পরাবাস্তবতাবাদকে (Surrealism) মিলিয়ে ফেলেন, যদিও দু’টি ধারণায় খুবই কাছাকাছি, কিন্তু এক নয়। বলা যেতে পারে একটি গাছের দু’টি শাখা, জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায় দু’টি ব্যাপারকেই খুব দক্ষতার সাথে ব্যবহার করেছেন।

জাদুবাস্তবতাবাদ এবং পরাবাস্তবতাবাদ উভয়ই ১৯২০ সালের দিকে তাত্ত্বিক রূপ পায়। এবং প্রায় সমসাময়িক সময়েই এদের ইশতেহার রচিত হয়। সে সময়টা ১৯২৫ সালের দিকে ফ্রাঞ্জ রোহ জাদুবাস্তবতাবাদ এবং এর কিছুদিন আগেই আন্দ্রে ব্রেতঁ প্রকাশ করেন পরাবাস্তববাদের ইশতেহার। জীবনানন্দ তার রূপসী বাংলা কাব্য গ্রন্থ লিখেছেন ১৯৩৪ সালের দিকে। বলা হয়ে থাকে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরা পালক’এ রবীন্দ্র নজরুল প্রভাব ছিল, কিন্তু পরের কাব্যগ্রন্থগুলোতে তিনি স্বরূপে আবির্ভূত হলেন।

ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র এবং অধ্যাপক হিসাবে সমকালীন ইউরোপীয় সাহিত্যতত্ত্বের সাথে তার তার যোগাযোগ ছিল। তিনি খবর রাখতেন বিশ্বের কোথায় কি হচ্ছে, কারা কি করছে। আমি জীবনানন্দকে হ্যামলেটের সাথে তুলনা করতে চাই, তার বিখ্যাত উক্তি ‘to be or not to be’ জীবনানন্দকে সংজ্ঞায়িত করে, অথবা, টি. এস. এলিয়টের ‘দ্যা লাভ সং অফ জো আলফ্রেড প্রুফক’ কবিতার সেই উক্তি ‘Do I dare!’ আমি কেন তা এই তুলনা করছি তা সহজেই বোঝা যায় তার মনস্তত্ত্বের ক্রমাগত সন্দেহের জন্য তিনি নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তার সমসাময়িক কবিদের মতো।

তিনি লিখেছেন কিন্তু প্রকাশ করেন নি, সেই দ্বন্দ্বে তিনি প্রতিনিয়ত ভুগেছেন, তার সমসাময়িকেরা তার দর্শন বুঝতে পারেননি, তাকে কটাক্ষ করেছেন। নিজে চাকরি হারিয়ে বেকার থেকেছেন, একটি ঔপনিবেশিক সমাজের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখেছেন সমাজসভ্যতার ক্রমাগত ভাঙ্গন, উপলব্ধি করেছেন, জীবনের সাথে ক্রমাগত যুদ্ধ করেছেন, প্রকৃতির মধ্যে তাই শান্তি খুঁজেছেন। প্রকৃতির রূপ, রস দিয়ে বলতে চেয়েছেন সেইসব অস্থির সময়ের কথা। বাস্তবকে চিত্রায়িত করেছেন অতিপ্রাকৃত সব চিত্রকল্প আর রূপকের আশ্রয় নিয়ে। এভাবেই জীবনানন্দের জাদুবাস্তবতার জাদুতে আমরা আবেশিত হয়ে রই তার কাব্যের মধ্যে। জীবনানন্দ তার নিজের প্রজন্মের জন্য লিখেননি, তিনি লিখেছিলেন তার পরবর্তী অন্য কোন প্রজন্মের জন্য। তাইতো আজ তিনি মৃত্যুর পরে এসে বিখ্যাত হলেন, আর একবিংশ শতাব্দীতে এসে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করলেন।

জাদুবাস্তবতার আধুনিক ইতিহাস হলো ল্যাটিন ইতিহাস। কিউবান লেখক আলেহো কার্পেন্তিয়ের, আর্জেনটাইন লেখক হোর্হে লুইস বোরহেস, কলম্বিয়ান লেখক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের হাত ধরে ম্যাজিক রিয়ালিজমের পুর্নাঙ্গ বিকাশ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে, কথাসাহিত্যের আশ্রয় নিয়ে এই মহতী লেখকেরা সেসব চিত্রকল্প ফুটিয়ে তুলেছেনআমরা যদি এই বিকাশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের দিকে তাকাই তাহলে দেখা যাচ্ছে যেসব রাষ্ট্র বা ভৌগলিক সীমানা ঔপনিবেশিক শাসনের মধ্যে ছিল সেসব জায়গাতেই ম্যাজিক রিয়ালিজমের ধারাটি বিকশিত হয়েছে। ফ্রেডরিক জেমসন এই সেটা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এবং বলেছিলেন– ‘as a kind of narrative raw materials derived essentially from present society, drawing in sophisticated ways on the world of village or even tribal myth.

জীবনানন্দের জাদুবাস্তবতাও সেই ব্রিটিশ উপনিবেশে গড়া ওঠা, এবং বাংলার লৌকিক উপকথা নির্ভর, যা প্রাকৃতিক নির্যাস ও রূপরঙে বাংলার মুক্তির কথা বলে জীবনানন্দের নিজের দেওয়া পাণ্ডুলিপির শিরোনাম “ত্রস্ত নীলিমা” এর আড়ালে।

ত্রস্ত নীলিমা”, ত্রস্ত (√ত্রস+) শব্দটির অর্থ সন্ত্রস্ত; ভয়চকিত বা বিচলিত। আর নীলিমা মানে আকাশ। তাহলে শব্দটির এভাবে অর্থায়ন করা যেতে পারে “সন্ত্রস্ত আকাশ”। এটা বললাম বোঝার সুবিধার্থে, এখন প্রশ্ন হল কেন জীবনানন্দ তার কবিতার এই পাণ্ডুলিপির নাম স্ত্রস্ত নীলিমা রেখেছেন! নিশ্চয়ই তার পেছনে গভীর দর্শন এবং যুক্তি ছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তার মৃত্যুর পরে বইটি প্রকাশের সময় নাম পরিবর্তন করে “রূপসী বাংলা” রাখা হয়। কেন রাখা হয় এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল “ত্রস্ত নীলিমা” নামটি খুব ভারী, সাধারণ পাঠকদের বোধগম্য হবে না তাই কবিতাগুলির রূপ কাঠামো অনুসারে এর নতুন নামকরণ করা হল ‘রূপসী বাংলা’। ‘তোমার বুক থেকে একদিন চ’লে যাবে তোমার সন্তান’ কবিতায় “রূপসী বাংলা” শব্দটি পাওয়া যায়। আমার মনে হয় তাতে করে বাংলা সাহিত্যের একটা ক্ষতি হয়ে গেল। শিরোনাম পরিবর্তনের জন্য আমরা কবিতাগুলোর আসল দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অনেক দূরে সরে এসে পাঠ করতে শুরু করলাম।

এই গ্রন্থটিকে শুধুই বাংলার রূপ, রস, সৌন্দর্যের স্তুতি হিসাবে পাঠ করা হল, তাকে আখ্যায়িত করা হল “রূপসী বাংলার কবি” হিসাবে। কিন্তু নৈসর্গিক বাস্তবতার আড়ালে জীবনানন্দ অন্য একটি বাস্তবতা লুকিয়ে রেখেছেন, সেটাই হলো জাদুবাস্তবতা।

জাদুবাস্তবতার ব্যাপ্তি আমরা দেখতে পাই লাতিন সাহিত্যে। আলেহো কার্পেন্তিয়ের, হোর্হে লুইস বোরহেস, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ লাতিন জাদুবাস্তবতার প্রবাদপ্রতিম পুরুষ। কিন্তু এখানে একটা কথা আছে এদের সবার জাদুবাস্তবতাই উপন্যাসে প্রকাশিত, উপন্যাসের বিস্তৃত প্রান্তর জুড়ে তারা ইউরোপিয়ান আমেরিকান ঔপনিবেশিক আগ্রাসন, সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, লাটিন আমেরিকার জীবন, ভৌতিক আবহ, অনুভবী ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বিশ্বাস ও আদিম সভ্যতার মিথ। সব মিলিয়ে কথা সাহিত্যে এক জাদুকরী ব্যাপারকে তুলে এনেছেন। কিন্তু জীবনানন্দ দাশের জাদুবাস্তবতা এই ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন। তিনি সব ব্যাপারগুলোকেই একটি চতুর্দশপদী কাঠামোর মধ্যে এনেছেন, এতে করে তাকে শব্দ চয়ন করতে হয়েছে খুব সচেতনভাবে, রূপকের ব্যবহার করতে হয়েছে, সে জন্য তিনি আশ্রয় নিয়েছেন প্রকৃতির।

এই কারণেই লাতিন লেখকদের জাদুবাস্তবতা উপন্যাসে যতখানি বিস্তৃত আকার পেয়েছে তা জীবনানন্দের কবিতার মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই পায়নি। এজন্যই আমরা যখন এই কবিতাগুলো পাঠ করি আমাদের মনে হয় ইহা শুধুই প্রকৃতির স্তবক। কিন্তু জীবনানন্দের জাদুবাস্তবতা তার যাপিত বাস্তবস্তার মধ্যে, তার এই চতুর্দশপদী কাঠামোতেই লুকিয়ে আছে।

এবার আমাদের ইতিহাসে ফিরে দেখা দরকার। জীবনানন্দ জন্মেছিলেন ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে, বিংশ শতকে তিনি বড় হয়ে উঠেছিলেন, শৈশবেই বাংলা ভাগ হল ১৯০৫ সালে তখন তার বয়স ৬ বছর, কিশোর জীবনানন্দ দেখলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, যুবক জীবনানন্দ দেখলেন রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব, ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ও অধ্যাপক হিসাবে ইউরোপীয় সাহিত্য আন্দোলনে কি ঘটছে তা তার অজানা ছিল না। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক অরাজগতা, ঔপনিবেশিক ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন সবকিছুই তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন, নিজে চিন্তা করেছেন, বিশ্লেষণ করেছেন, বিশেষ করে ভেবেছেন বাংলাকে নিয়ে, তাইতো ১৯৩৪ সালেই তার ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যে তিনি তার আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বুঝতে পেরেছিলেন আসন্ন বিশ্বযুদ্ধের দামামা, বাংলার অখণ্ড সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে ঔপনিবেশিক কর্তাদের কুদৃষ্টি তো আগেই পরেছিল, তিনি আঁচ করতে পেরেছিলেন যে তা হয়ত স্বাধীন হবার পরে থাকবে না। বাংলার স্বাধীনতা নিয়ে যে ভয় তিনি করেছিলেন। সে চিন্তা আর দর্শন মিলে যে কাব্য রচিত হল তার নাম দিলেন ‘ত্রস্ত নীলিমা’। আগেই বলেছি জীবনানন্দের জাদুবাস্তবতা তার বাস্তবের মধ্যেই নিহিত, তিনি প্রকৃতি থেকে উপাদান নিয়েছেন। বাংলার লৌকিক কাহিনী আশ্রয় করে নিজের চেতনাকে ফুটিয়ে তুলেছেন এক জাদুকরী উপায়ে। প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউরোপীয় ও আর্য সাম্রাজ্যবাদকে, তাইতো তার লেখায় এসেছে মনসামঙ্গল কাব্যের কাহিনীগাঁথা।

জাদুবাস্তবতার প্রকাশ আসলে উপন্যাসে, শুধু ল্যাটিন বা ইউরোপীয় নয় বাংলা সাহিত্যের গল্প উপন্যাসেও এর বিকাশ ঘটেছে নবারুণ ভট্টাচার্য, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, শহিদুল জহির, ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় প্রভৃতি সাহিত্যিকদের লেখনীতে। কিন্তু জীবনানন্দ দাশের অনন্যতা আসলে সব জায়গায়, প্রথমত বাংলা কাব্যে তিনি জাদুবাস্তবতার আশ্রয় নিয়েছেন যেটা আগে কেউ করে নি, বা পরেও কাব্যে কারা জাদুবাস্তবতা নিয়ে খেলা করেছেন সেটা অনুসন্ধানের ব্যাপার হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, সময়, সময়ই জীবনানন্দকে শ্রেষ্ঠত্বের আসন দিবে, কালের বিচারে জাদুবাস্তবতার শিশুকালেই জীবন বাবু তাকে পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকে তুলে এনে আশ্রয় দিয়েছেন তার চতুর্দশপদী কবিতা কাঠামোতে। জীবনানন্দের জাদুবাস্তবতা প্রতিষ্ঠানকে অস্বীকার করে, এর কারণ একটি বঞ্চিত সমাজ, যারা দাস, উদ্বাস্তু, পরাধীন, তাদের প্রতিষ্ঠা দিতে জীবনান্দের জাদুবাস্তবতা পরাবাস্তববাদীদের ইদ এর ধারণা (Id) ছাড়িয়ে চলে যান ইগোর (Ego) জগতে, যেখানে বাস্তবতাকে সচেতন নজর দেয়া হয়, কখনও তাকে ছাড়িয়ে সুপার ইগোর (Super Ego) জগতে। যেখানে বাস্তবের সমস্যা দূর করার জন্য কল্পনা, অলৌকিকতার হাত ধরা যায়, নৈতিক বুদ্ধি ও বিবেকের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয় গঠনাত্মক চেতনা।

জাদুকর জীবনানন্দের জাদুবাস্তবতা বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও ভেতরে রয়েছে তার লজিক, না হলে কবিতায় একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠন কোনভাবেই সম্ভব নয়। জাদুবাস্তবতা হল বাস্তবের প্রবল সংকট থেকে মুক্তির বিকল্প পথ নির্মাণ করা। তাই “বাংলার ত্রস্ত নীলিমা” কাব্যগ্রন্থে জাদুবাস্তবতার আঁধারে কবি ঝড়ের বেগে আক্রমণ করলেন শাসক শক্তি, ঔপনিবেশিক শক্তি ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। এবং প্রথম কবিতাতেই তিনি দ্ব্যার্থহীনভাবে বললেন “তোমার যেখানে সাধ চ’লে যাওআমি এই বাংলার পারে রয়ে যাবো”।

Share.

Comments are closed.