অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা ও জাল টাকার পৃথক তিন মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নুর পাপিয়া ওরফে পিউ এবং তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন। জিজ্ঞাসাবাদে একের পর এক বেরিয়ে আসছে তাদের অপকর্মের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। তবে গুরুতর অপরাধ সম্পর্কে নিরব আছেন পাপিয়া।
জিজ্ঞাসাবাদে এ ধরনের কিছু প্রশ্নের জবাব না দিয়ে কৌশলে তা এড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। কখনো আবার প্রশ্নের উত্তরে উল্টো প্রশ্ন করছেন পাপিয়া।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের করা অনৈতিক কাজ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাব পাপিয়া বলেন, নারীদের প্রতি আকর্ষণ কার নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের বরাতে একটি জাতীয় দৈনিকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ করা তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে পাপিয়া বলেন, নারীদের প্রতি আকর্ষণ কার নেই। এখন কেন সমস্ত দোষ পাপিয়ার হবে? প্রায় পুরুষই নারী লোভী।
এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে ব্যবসায়ী, বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেছেন পাপিয়া। এই সব ব্যক্তিদের আগ্রহের কারণেই রাশিয়া থেকে যৌন কর্মীদের ঢাকায় এনেছিলেন বলেও জানান তিনি। ওই প্রতিবেদনটিতে এমনটাই বলা হয়েছে।
রিমান্ডের বিষয়ে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, পাপিয়ার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছে র্যাব। মামলাগুলো গত বুধবার রাতে ডিবিতে স্থানান্তর হয়েছে। ওই সব মামলায় পাপিয়া রিমান্ডে রয়েছেন। তার অপকর্মের সঙ্গে কারা জড়িত, কারা প্রশ্রয় দাতা, তার অর্থের উৎস কী, তার বেপরোয়া হয়ে ওঠার পেছনে কে বা কারা আছেন, সবই তদন্ত করে দেখা হবে। অনৈতিক বিষয় থাকলে সেটাও তদন্ত করে দেখা হবে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশত্যাগের সময় পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
পৃথক তিন মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ১৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। এছাড়াও তাদের সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
