লম্বা বিরতির পর মাঠে নেমেছেন বাংলাদেশের পেস সেনসেশন মোস্তাফিজুর রহমান। নিউজিল্যান্ড সফরের আগে অস্ট্রেলিয়ায় কন্ডিশন ক্যাম্পে ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন তিনি। তাই তার উপর সবার আস্থাও বেড়েছিল। আলোচনার তুঙ্গে ছিলেন তিনি।
সেই আস্থার সম্মানও রেখেছেন হাসি মুখের ঘাতক। বল হাতে মাঠে ফিরেই দুটি করে উইকেট শিকার করেছেন।
এরপর বিশ্রামে রাখা হয় মোস্তাফিজকে। সেটা ফিজিও ডিন কনয়ের পরামর্শেই।
তবে এবার টি-২০ সিরিজের শেষ ম্যাচে নিজে থেকেই বিশ্রাম চাচ্ছেন মোস্তাফিজ। পিঠে নাকি সামান্য ব্যথা অনুভব করছেন তিনি। যদি বিশ্রামে যান, তবে তার বদলে মাঠে নামবেন পেসার তাসকিন আহমেদ।
এখন চিন্তার বিষয় হলো, মোস্তাফিজ মানসিকভাবে একটু দুর্বল হয়ে পড়েছেন। লম্বা সময় মাঠের বাইরে থাকলে মনের কোণে নানা শঙ্কা বাসা বাধা স্বাভাবিক। নিজের মনেই নিজেকে নিয়ে উঁকি দেয় নানা সংশয়। মোস্তাফিজকেও সেই লড়াই করে হচ্ছে প্রতি নিয়ত। অস্ত্রোপচারের ধাক্কা সামলে আসতে হয়েছে বলেই হয়ত মনের ভেতর শঙ্কার চোরাবালি, যদি আবার কিছু হয়!
তবে মোস্তাফিজের এই অবস্থা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে ফিজিওর কাছে। দল সূত্রের তথ্য, ফিজিও ডিন কনয় বলেছেন, এই বয়সে মানসিকভাবে এতটা নুইয়ে পড়া বিস্ময়কর। তার ওপর মোস্তাফিজের এখন দৃশ্যমান কোনো শারীরিক সমস্যা নেই যে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতেও তিনি ইতস্তত করবেন। অনুশীলন থেকেও সরে থাকবেন দূরে। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগের দিন অনুশীলনে এলেও বল করেননি মোস্তাফিজ।
টি-টোয়েন্টি খেলতে না পারলে টেস্টও মাঠে নামার কথা নয় মোস্তাফিজের। ঝুঁকি এড়াতে তাই প্রথম টেস্টের দলে রাখা হয়নি তাকে। দ্বিতীয় টেস্টের দলে থাকবেন কি না, নিশ্চিত নয় সেটাও।
এই ব্যাপারে আজ রাতে মোস্তাফিজের সাথে সভায় বসবেন কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন, ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা ও টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। সভায় তার সাথে কথা বলে হয়তো সে ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন কোচ-নির্বাচকেরা।
মুস্তাফিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না হলেও বাকিদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে দেশে ফিরে যাবেন টেস্ট দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররা। ফিরে যাবেন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় সফরে আসা পেসার এবাদত হোসেনও। তবে দলে না থাকলেও ডেভেলপমেন্টের আরেক ক্রিকেটার নাজমুল হাসান শান্ত থেকে যাবেন নিউজিল্যান্ডে।
