২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | ভোর ৫:০৮

সিনেমা রিভিউ : দর্শকের প্রত্যাশার গণ্ডি ছাড়াতে অক্ষম হয়েছে অগোছালো ‘গণ্ডি’!  

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

ফাখরুল আরেফীন খানের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘গণ্ডি’ মুক্তি পেয়েছে চলতি ৭ ফেব্রুয়ারি।

গড়াই ফিল্মস প্রযোজিত ‘গণ্ডি’ চলচ্চিত্রের কাহিনি এগিয়ে গেছে মূলত ৫৫ ও ৬৫ বছর বয়সী দুজন নারী-পুরুষর গল্পে। এই বয়সে দুজন নারী-পুরুষের বন্ধুত্ব কেমন হয়, পরিবার ও আশপাশের মানুষ বিষয়টিকে কীভাবে নেয়, এটাই আছে সিনেমাটিতে। ছবির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন কলকাতার সব্যসাচী চক্রবর্তী ও বাংলাদেশের সুবর্ণা মুস্তাফা। আরো অভিনয় করেছেন শুভাসিষ ভৌমিক, মাজনুন মিজান, অপর্ণা  ঘোষ, আমান রেজা, পায়েল মুখার্জি প্রমুখ। ঢাকা, কক্সবাজার ও লন্ডনের বেশ কয়েকটি স্থানে ছবিটির দৃশ্যধারণ হয়েছে। এই ছবির আবহ সংগীত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সংগীতব্যক্তিত্ব দেবজ্যোতি মিশ্র।

সিনেমা ‘গণ্ডি’-যতো না বয়সের, তার চেয়ে বেশি মানসিকতার। বেশি বয়সের একাকিত্ব, নির্দিষ্ট উঠোন, ঘর-বাড়ি, দরজা-জানালা এবং মানুষ। কেন? এর বাইরে নয় কেন? কেন বেশি বয়সে নয় নতুন বন্ধুত্ব? কেন নয় নতুন গল্প, নতুন উচ্ছ্বাস, ভাগাভাগি?

কারণ মানসিকতার গণ্ডি। সন্তান-পরিজন যখন নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত, কাজ নিয়ে ছুটছেন নিরন্তর, তখন একজন বয়স্ক মানুষ সম্পূর্ণ একা। তাদের স্বাধীনতা কোথায়?

সেই প্রশ্নই তুলবে গণ্ডি, ছুঁয়ে যেতে চাইবে একাকিত্বের ব্যাথা। ভেঙে দিতে চাইবে বয়স্ক নারী-পুরুষদের জীবনের পরিচিত প্রবাদ।

দুই বয়স্ক মানুষ বাড়িতে একা। তাদের ছেলেমেয়েরা বিদেশে। তাদের মধ্যে আলাপ জমে। দেখা হয় রোজ। কিছু প্রেমাস্পর্শ। নিজের সিদ্ধান্তে তারা বাঁচতে চায়। কী সেই সিদ্ধান্ত? কেন সিদ্ধান্তের বিরোধী পক্ষ তৈরি হয়? এই নিয়েই চিত্রনাট্য।

গল্পের টপিক এবং মেসেজ স্পষ্ট এবং ভালো। তবে গল্পটি গুছিয়ে বলা হয়নি বলেই প্রত্যাক্ষ করা গেছে সিনেমাটিতে।  সিনেমার পাত্রপাত্রী নির্বাচনে পরিচালক আরও বিচক্ষনতার পরিচয় দিতেই পারতেন। সুবর্ণা মুস্তাফার ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি প্রযোজ্য। সুবর্ণা মুস্তাফার মত ডাকসাইটে অভিনেত্রী সব যুগে জন্মান না। অভিনয়ে তিনি অতুলনীয়। কিন্তু ভিজুয়ালি এই গল্পে ঠিক মানাচ্ছেন না তিনি। পরিচালক সুবর্ণা মুস্তাফা ম্যামের স্টারডমের লোভ হাতছাড়া করতে চাননি অথবা তিনি ঠিকঠাক বুঝে উঠেননি এখানে কাকে রাখলে যথার্থ হয়ে উঠবেন তিনি। ওসি হিসেবে যে তরুন কে রাখা হয়েছে, ওসি হিসেবে মানাচ্ছে না তাকে অথচ তিনিও অভিনয়ে মোটেও দুর্বল নন। মাজনুন মিজান, অপর্ণা  ঘোষ ঠিকঠাক। পায়েল মুখার্জি প্রথম দৃশ্যে উতরে গেলেও, শেষ নামাতে পারেননি।

‘ন ডরাই’ সিনেমায় কক্সবাজারকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে সে তুলনায় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পরিচালক ফাখরুল আরেফীন খান বেশ অসফলই বলা যায়। কক্সবাজারের ব্যান্ডিং তিনি করতে পারেননি।

সবমিলিয়ে গল্পটা জমাট বাধেনি বলেই বিবেচ্য। তাহলে গণ্ডি সিনেমায় আসলে পাওয়া গেলো কি? সব্যসাচী চক্রবর্তীর অভিনয় এ সিনেমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।সুযোগ তৈরি করে মুভিতে বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন করে দেওয়া কোন আদর্শ মুভির কাজ হতে পারে না। যা বেশ কয়েকবার ঘটেছে এই মুভিতে।

ছবিটি নিয়ে খুঁটিনাটি অনেক সমালোচনা আলোচনার আলোকপাত করায় যায় কিন্তু চলচিত্রের এই দুঃসময়ে সিনেমা বানানো হচ্ছে, হলে মুক্তি পাচ্ছে এটিই তো আশীর্বাদ স্বরূপ। তাই পরিচালকের নিন্দে না গেয়ে, তিনি তার পরিচালনার মুন্সিয়ানা বাড়াবেন, সিনেমা মস্তিষ্কের ধাঁর বাড়িয়ে আমাদের মৃতপ্রায় চলচিত্রশিল্পে কিছুটা হলেও অবদান রাখতে সক্ষম হবেন সাধারণ দর্শক হিসেবে তার প্রতি এমনটিই প্রত্যাশা থাকবে।

 

রেটিং : 2/5

Share.

Comments are closed.