Categories: জাতীয়

থানায় ঝুলিয়ে নির্যাতনের এই ছবিটি কার?

যশোরে ‘দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের’ জন্য এক যুবককে থানায় ধরে নিয়ে গিয়ে উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্যাতনের ছবি ছড়িয়ে পরে ফেসবুকে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে ৫০ হাজার টাকা পেয়ে একদিন পরেই ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়ার। তবে পুলিশ এবং ‘সেই যুবক’ আবু সাঈদ (৩২) সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী, পুলিশ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আবু সাঈদ দাবি করেছে, পুলিশ তাকে কোনও নির্যাতন করেনি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় থানায় ধরে নেওয়ার একদিন পরেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক যুবককে কোতোয়ালি থানার ভেতরে দুটি টেবিলের মাঝখানে মোটা একটি লাঠির মাধ্যমে উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্যাতনের একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ছবিটি কার এবং কী কারণে তাকে থানায় এভাবে রাখা হয়েছে- সে বিষয়ে কোনও কিছু জানা সম্ভব হয়নি। পরে জানা যায়, ওই যুবকের নাম আবু সাঈদ। বাড়ি যশোর সদরের তালবাড়িয়া কলেজপাড়ায়।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন জানান, ৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে তালবাড়িয়া কলেজপাড়া থেকে সাঈদকে আটক করে সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা। কোতোয়ালি থানার কথিত সিভিল টিমের সদস্য এসআই নাজমুল ও এএসআই হাদিকুর রহমান তাকে ধরে নিয়ে যান।

তবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবির সূত্র ধরে অভিযোগ ওঠে, সাঈদকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দুই টেবিলের মাঝখানে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারধর করেন পুলিশের কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে সাঈদকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তার পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে পরদিন ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত এসআই নাজমুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তিনি গত দুদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। সাঈদ নামে কাউকে আটক বা চাঁদা আদায়ের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। এএসআই হাদিকুর রহমান জানান, এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

আবু সাঈদ শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বুধবার রাতে এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে থানায় নিয়ে আমি দুই নম্বর ব্যবসা করি কিনা জানতে চায়। আমি তো ওইসব দুই নম্বরি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। সেকারণে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আমাকে ছেড়ে দেয়। আমাকে কোনও টর্চার করেনি পুলিশ।’

এ বিষয়ে সাঈদের বড়ভাই আতিয়ার রহমান বলেন, ‘বুধবার রাতে আমার ভাইকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ না থাকায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশ কোনও টাকা নেয়নি কিংবা তাকে মারধরও করেনি।’

সাঈদের স্ত্রী বিলকিস খাতুন ও ছোটভাই আশিকুর রহমানও এর আগে দাবি করেন ফেসবুকে যে উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে- সেটা তার ভাইয়ের না।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন জানান, শুক্রবার সকালে সাংবাদিকরা আসার আগেই এলাকায় পুলিশ এসেছিল। তারা সাঈদদের বাড়িতেও গিয়েছিল। ভয়ে এখন ওই বাড়ির লোকজন সত্য কথা বলছে না। স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান ও কামরুল ইসলাম জানান, সাঈদ নেশা করে। তবে মাদকের ব্যবসা করে কিনা তা তাদের জানা নেই।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন বলেন, ছবিটি কার, কখন তোলা আমার জানা নেই। গণমাধ্যমে এটি প্রকাশ করা হয়েছে। তারা কোথায় পেল তা আমি জানি না। থানায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে মিডিয়ায় সংবাদ ও ছবি প্রকাশের পর থানায় মারপিট ও টাকা আদায়ের অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।–নয়া দিগন্ত

Recent Posts

১৯০টি দেশে মুক্তি পাচ্ছে ধানুশের নতুন সিনেমা

অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তামিলের জনপ্রিয় তারকা ধানুশের সিনেমা। বহুল প্রতীক্ষিত এ সিনেমার নাম ‘জগমে…

6 months ago

এবার ঝড় তুলেছে সালমানের ‘দিল দে দিয়া’

অনেক প্রতীক্ষার পর অবশেষে গত ২৬ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে সালমান-দিশা জুটির বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রাধে…

6 months ago

৩২ বছর পর সিনেমায় সালমানের চুমু!

প্রভুদেবা পরিচালিত এবং সালমান খান অভিনীত ব্যাপক আলোচিত সিনেমা ‘রাধে’র ট্রেইলার মুক্তি পেয়েছে বৃহস্পতিবার (২২…

6 months ago

নেটফ্লিক্সের ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমছে

জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের…

6 months ago

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

সিরিজের প্রথম টেস্টে সমানে সমান লড়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।…

6 months ago

২৪ ঘণ্টায় ৭৮ জনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় দেশে…

6 months ago