গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিভাগ রূপান্তরের চলমান আন্দোলনকে থামাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ইটিই বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান শিক্ষার্থীদের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও আন্দোলন বন্ধ করতে নানা কৌশলও অবলম্বন করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে বুধবার (২৭ নভেম্বর) থেকে সেমিস্টার পরীক্ষার শুরু হলেও তাতে অংশ নেয়নি ইটিই বিভাগের ১৫৮ শিক্ষার্থী। সংবাদ সম্মেলনে ইটিই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, বিভাগ রূপান্তরের স্মারকলিপি এবং গঠনমূলক তথ্যাদিসহ বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। তখন উপাচার্য দাবিটির যৌক্তিকতা স্বীকার করে পরিবর্তনের আশ্বাস দেন। ওই সময়ে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসরের সাথে কথা বলেন। ওই শিক্ষকও সহমত জানিয়ে বর্তমান সময়ে ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, সিভিল, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বাদে জব মার্কেটে তেমন কাউকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে জানান। এ সময় বিভাগ পরিবর্তন পূর্বক এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন উপাচার্য। আন্দোলনের মুখে বিভাগ পরিবর্তনের যৌক্তিকতা স্বীকার করে একটি অফিস আদেশও প্রেরণ করেন তিনি। তবে বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমে আন্দোলন নিয়ে তার দেয়া বক্তব্য আন্দোলনের যৌক্তিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা। সম্প্রতি আন্দোলনরত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে ডেকে আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন ভিসি স্যার।
৪ নভেম্বর আন্দোলনের যৌক্তিকতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রক্টর বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। নতুন ভিসি আসা মাত্রই আমাদের দাবি অফিসিয়ালী মেনে নেবেন বলে জানানো হয়। সে সময়ে নতুন করে ইটিই বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি না করার অনুরোধ জানাই। তিনি বলেন বর্তমান উপাচার্যের ক্ষমতা অতি স্বল্প। আর যেহেতু সার্কুলারে আসন সংখ্যাসহ বিভাগ উল্লেখ হয়েছে সেহেতু উক্ত বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তিতে প্রশাসন বাধ্য। কিন্তু ভর্তি পরিক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায় শিবচরের আসন সমূহকে বাতিল করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইটিই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থীর শিহাব শাহারিয়ার বলেন, শিবচর ইন্সটিটিউটে ভর্তি বাতিলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেও আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে তিনি উদাসীনতা প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও উপাচার্যের সুস্পষ্ট বক্তব্য কামনা করছি। আর নতুন উপাচার্য নিয়োগের অপেক্ষা না করে সমস্যাটিকে জোরালোভাবে দেখার অনুরোধ জানান ওই শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থী আরো বলেন, আমাদের আন্দোলনকে বাধাগ্রস্থ করতে যে রুমে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। বিকল্প রুম থাকতেও সে রুমে পরিক্ষা নেয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কে অনুরোধ করলেও তা রাখেনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস চ্যান্সেলরের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, ২৭ অক্টোবর থেকে ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হতে এক দফা দাবি নিয়ে ১ মাস ধরে এ আন্দোলন করে আসছে।
