ক্যারিয়ারে সবচেয়ে কঠিন দিন মঙ্গলবার পার করলেন সাকিব আল হাসান। তিনবার ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পরও আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট আকসুকে না জানানোয় আইসিসি তাকে এক বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে। আরও ৩৬৫ দিন কঠিন সময়ের মধ্যদিয়ে যেতে হবে এই বাঁ-হাতি অলরাউন্ডারকে। ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট ছাড়া যিনি কিছুই বোঝেন না, ক্রিকেটই যার ধ্যান-জ্ঞান, তিনি কীভাবে গোটা একটা বছর ক্রিকেট ছাড়া থাকবেন?
প্রধানমন্ত্রী থেকে বিসিবি, সাকিবের সতীর্থ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ- সবাই দুঃসময়ে তার পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির আগেরদিন একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি মনে করছেন, আরও শক্তভাবে সাকিব ফিরবেন। এদিকে এরই মধ্যে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) ক্রিকেট কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সাকিব। আইসিসির নিষেধাজ্ঞার পর এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কয়েকদিন আগে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একই মঞ্চে ভাষণ দিয়েছেন সাকিব। ইউনিসেফ থেকেও সরে যেতে হতে পারে তাকে। কিন্তু আপাতত শুভেচ্ছদূত হিসেবে তাকে ছাড়ার চিন্তা করছে না ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিসিবির নিয়ম অনুযায়ী সাকিব নিষিদ্ধ হওয়ায় তার কেন্দ্রীয় চুক্তি বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। এখনও সেটা চূড়ান্ত হয়নি।
জাতীয় দলের চুক্তিতে তাকে রাখা হবে কি না জানতে চাইলে কাল বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখনও তার চুক্তি নিয়ে আলোচনা করিনি। এ বিষয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হবে সাকিবকে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জিম, চিকিৎসা এবং অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধা নিতে পারবেন তিনি। এক বছর নিজেকে ফিট রাখার জন্য জিম ও অনুশীলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন। অধিকাংশ সময় তার যুক্তরাষ্ট্রে কাটবে বলে জানিয়েছেন সাকিবের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র। চাইলে সেখানকার বিভিন্ন অপেশাদার টুর্নামেন্টে খেলে নিজেকে ফিট রাখবেন। এছাড়া আইসিসির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে তাকে।
কিছুদিন আগে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, সব মিলিয়ে সাকিবের মাসিক আয় ২৩ কোটি টাকা। তিনি যেসব প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত, তারা এখনই সরে যাওয়ার চিন্তা করছে না। তাই সেখান থেকে তার খুব বেশি আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। গ্রামীণফোনের সঙ্গে কয়েকদিন আগে তিন কোটি টাকার চুক্তি করেছেন সাকিব। যেটি বিসিবির আইনবিরোধী। এখনই বিসিবি এ বিষয়টাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। কিন্তু জাতীয় দলের বেতন, আন্তর্জাতিক ম্যাচ, ঘরোয়া ক্রিকেট ও ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেটের অর্থ পাবেন না। এই সময়ে তিনি সব ফরম্যাট মিলে ৩৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ মিস করবেন। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেটের ম্যাচের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারত।
এদিকে মনোবিদরা বলছেন, নিষিদ্ধ থাকার সময় সাকিবকে কাছে টেনে নিতে হবে সবার। কাল বিশেষজ্ঞ মনোবিদ কাজী আতাউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘এই সময়ে সাকিব যেন হতাশ না হয়ে পড়েন সেদিকে নজর রাখতে হবে। তাকে বিভিন্ন প্রোগ্রামের সঙ্গে বেশি করে যুক্ত করা উচিত। এছাড়া কাছের লোকজনদের দায়িত্ব সাকিবকে সাহস জোগানো।’
