গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, টিউবওয়েল না বসিয়ে বিল তোলাসহ নানান অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইএনও)প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও)এবং ঠিকাদাররা। গরীব মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই প্রকল্পটি ১৯৭২ সনেই চালু করেছিলেন। বিভিন্ন সরকারের সময় প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই এই প্রকল্পটি চালু রেখেছে।
সেই হিসেবে এটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের একটি কিন্তু প্রকল্পটির পরিচালকের কার্যালয় থেকে শুরু করে বাস্তবায়নের পর্যায়ের প্রতিটি স্তরে রয়েছে দূর্নীতি। এখানেই শেষ নয়। খোদ প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) বিরুদ্ধেই রয়েছে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত কাবিখার চাল বিক্রির অভিযোগ। প্রকল্প পরিচালকের দূর্নীতিসহ নানান অনিয়মের বিষয়টি তদন্তের জন্য ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ওদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বরগুনার তালতলী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভূমি সচিবকে পত্র দেওয়া হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারি শনিবার বলেন, প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বলেছি একজন ভালো পিডি নিয়োগ দিতে। বরগুনার আমতলী উপজেলার গুচ্ছগ্রামের ঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ সত্য বলে তিনি স্বীকার করেন।
সচিব বলেন, বিষয়টি তদন্ত হয়েছে সব দূর্নীতি করেছে পিআইও। সে যেহেতু আমারে মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি করছেন না। সেহেতু আর ডিপার্টমেন্ট দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা সুপারিশ করেছি। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, দূর্নীতির সঙ্গে ইউএনও এবং অন্যান্যরাও জড়িত কিন্তু ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে পিআইওকে।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের পিডি প্রকল্প বাস্তবয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দের চাল ঠিকাদারদের কাছে টাকা নিয়ে ছাড় করেছেন। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৫/৬ কোটি টাকার আর্থিক দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি সংকুলান না করে নির্মাণ সামগ্রী কেনাকাটা হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে। ফলে অনেক নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব জানান, পিডির বিরুদ্ধে বরাদ্দকৃত চাল টাকার বিনিময় ছাড়করণের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। এছাড়া বাকি অভিযোগ সত্য নয়। বিষয়টি তদন্ত হবে।
অপরদিকে গত ৯ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভূমি সচিবের কাছে পাঠানো একপত্রে বলা হয়, ভূমিহীন, ঘরহীন, হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের বসবাসের জন্য গুচ্ছগ্রাম আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। গত বছর বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার বড়ডগী, নিশাবাড়িয়া ও সোনাকাটা ইউনিয়নে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। সোনাকাটা ইউনিয়নে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের অধীনে ৫০টি বসতঘর নির্মাণবাবদ ৭৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঘর প্রতি বরাদ্দ ছিলো ১ লাখ ৫৬ হাজার ৯০০টাকা। ওই ৫০টি ঘরের মধ্যে ৪৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। তিনটি ঘর তৈরি না করেই প্রকল্পের কর্মকান্ড সমাপ্ত করা হয়। যে ধরণের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ঘর তৈরির কথা ছিল তা ব্যবহার করা হয়নি।
অধিকাংশ ঘরের খুঁটি তথা পিলারে অতি নিম্মামানের রড ব্যবহার করা হয়েছে। ঘলগুলো ভিট ইট দিয়ে বাঁধানোর কথা থাকলেও তা মাটি দিয়ে বাঁধা হয়েছে। বাথরুম তৈরি কথা থাকলেও তা তৈরি করা হয় নি। আবাসন প্রকল্পের গাঁ ঘেঁষে পাঁয়রা নদীর শাখা নদী প্রবাহিত হচ্ছে। দূর্যোগ জলোচ্ছ্বাসে ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা পেতে নীতে ব্লক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও ভাঙ্গন ঠেকাতে কার্যত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। ফলে নদীর তীব্র স্ত্রোতে ঘরগুলো বিলীন হয়ে যেতে পারে।
নিন্দ্রারচর আবাসন প্রকল্পে একটি হলরুম নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ছিল ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। হলরুম নির্মাণ না করে বরাদ্দের পুরো টাকাই মেরে দিয়েছেন ইউএনও, পিআইও এবং ঠিকাদার। ওই প্রকল্পের প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা ব্যয় ধরা হলেও প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। প্রকল্পের সুবিধাভোগীরে জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করতে ৬টি টিউভওয়েল স্থাপনের বরাদ্দ থাকলেও মাত্র দুইটি টিউভওয়েল স্থাপন করা হয়েছে।
চারটির স্থাপন না করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুইটি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে সেগুলো থেকে পানি উঠছে না। প্রকল্পের উপকারভোগীদের মধ্যে ঘরগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয় নি। তাদের জন্য বিনাসুধে ২০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া কথা থাকলেও তা বিতরণ করা হয় নি।
অপরদিকে নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়নের কবিরাজ পাড়া আবাসান প্রকল্পের ৪০টি বসতঘর নির্মাণ বাবদ ৬২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০টাকা। প্রকল্প এলাকায় ভূমি বিরোধ থাকায় তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। বড়বগী ইউনিয়নের সওদাগর পাড়ার সৈকত গুচ্ছগ্রামটিতে ৫৮টি বসত ঘর নির্মাণবাবদ ৯১ লাখ ২৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্মাণ কাজে বিভিন্ন অনিয়ম ও কাজ নিম্মামানের হওয়ায় স্থানীয় সচেতন জনসাধারণ বাধার কারণে কিছু দিন বন্ধ রাখার পর আবার চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পত্রে আরও বলা হয়, ইউএনওর কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে তিনি আমলে নেন না। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দূর্নীতি দৃশ্যমান হলেও ইউএনও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেন নি। ইউএনও, পিআইও, ঠিকাদার এবং টেন্ডারম্যানের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানোপত্রে আরও বলা হয়, ২০০৭ সালে ঘুর্ণিঝড় সিডরের তান্ডবে বরগুনা জেলায় বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই সময় ভিটে মাটিহীন মানুষের জন্য একটি আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় বড়ডগী ইউনিয়নের ছোট ভাই জোড়া, নিওপাড়া, কাজিরখাল ও চরখালী, ছোটবগী ইউনিয়নের বগীবাজার ও বাগবাড়িয়া, পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রতলা, নিশান বাড়ীয়া ইউনিয়নের বড়ইতলী, বড় অংকুজাপাড়া, নলবুনিয়ার চর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বসতঘর নির্মাণ করা হয়। ইতোমধ্যে সঠিক তাদারকির অভাবে ঘরগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ওই পত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দীপায়নাশ শুভ, টেন্ডারম্যান সোহেল, পিআইও মহসিনুল হাসান এবং ঠিকাদার মো. রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া কাজগুলো সঠিক নিয়ম মেনে সম্পন্ন করার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে।
অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তামিলের জনপ্রিয় তারকা ধানুশের সিনেমা। বহুল প্রতীক্ষিত এ সিনেমার নাম ‘জগমে…
অনেক প্রতীক্ষার পর অবশেষে গত ২৬ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে সালমান-দিশা জুটির বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রাধে…
প্রভুদেবা পরিচালিত এবং সালমান খান অভিনীত ব্যাপক আলোচিত সিনেমা ‘রাধে’র ট্রেইলার মুক্তি পেয়েছে বৃহস্পতিবার (২২…
জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের…
সিরিজের প্রথম টেস্টে সমানে সমান লড়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।…
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় দেশে…