২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | ভোর ৫:০৬

কেনো হট্টগোল এফডিসিতে

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

শিল্পীদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) শিল্পী সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা দিতে র‌্যাব ও পুলিশের কঠোর নজরদারি ছিল এফডিসি এলাকাজুড়ে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ভোট দিতে এসে এফডিসির গেটে লাঞ্ছিত হয়েছেন বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। শুধু তিনি নন, অপমানিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক কাজী হায়াত, জনপ্রিয় নির্মাতা বদরুল আলম খোকন, গাজী জাহাঙ্গীর ও প্রযোজক মোহাম্মাদ ইকবালসহ আরও কয়েকজন নির্মাতা। এ ঘটনায় এফডিসির গেটে নেয়া কড়া নিরাপত্তা ও নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চনকে দুষলেন তারা।

জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের দেয়া হলুদ কার্ড না দেখানোর কারণে জনপ্রিয় এসব নির্মাতা ও প্রযোজক ঢুকতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। এ সময় গেটে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশদের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা হয় নেতাদের, দেখা দেয় চরম উত্তেজনা। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চনের ফোন পেয়ে খোকনসহ সবাইকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়।

এর আগে, চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খলনায়িকা রিনা খানকে এফডিসির ফটকে ঢুকতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠে। রিনা খান বলেন, আজ এফডিসিতে উতসব পরিবেশ বিরাজ করছে। আজ শিল্পী সমিতির সকল সদস্যদের মনে আনন্দ কাজ করছে। আমারও অনেক ভালো লাগছে এই পরিবেশ দেখে। তবে ক’দিন পরেই তো মন খারাপ হয়ে যাবে। আমাদের শিল্পীদের দুর্দশার কথা ভাবলেই মন খারাপ হয়ে যায়।

দুঃস্থ শিল্পীদের আবাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশা প্রকাশ করে এই অভিনেত্রী বলেন, নতুন নির্বাচিত কমিটির কাছে আমার একটাই প্রত্যাশা তারা যেন এই দরিদ্র শিল্পীদের জন্য খুব সামান্য হলেও আবাসন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়।

জনমনে প্রশ্ন উঠে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এত নিরাপত্তার মাঝেও কেন এমন অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত? তাহলে কি নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী?

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন শেষে হয়েছে। চলছে ভোট গণনা। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন, এবার ৪৪৯ ভোটের মধ্যে কাস্টিং হয়েছে ৩৮৬ ভোট। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) সমিতির কার্যালয়ে সকাল ৯টায় ভোট শুরু হয়। চলে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত।

এবার সমিতির ২১টি পদের মধ্যে নির্বাচন হচ্ছে ১৮টি পদের। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বাকি তিন পদের প্রার্থীকে সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তারা হলেন সুব্রত (সাংগঠনিক সম্পাদক), জ্যাকি আলমগীর (দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক) এবং ফরহাদ (কোষাধ্যক্ষ)।

১৮ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৭ জন প্রার্থী। সমিতির সর্বশেষ সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক আবারও পূর্ণাঙ্গ প্যানেল নিয়ে একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মিশার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। আর সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদের বিপক্ষে লড়ছেন ইলিয়াস কোবরা।

এছাড়া সহ-সভাপতি পদে লড়ছেন-মাসুম পারভেজ রুবেল, মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও নানা শাহ। এখান থেকে দু’জন নির্বাচিত হবেন।

Share.

Comments are closed.