বাংলাদেশ দলে একজন ভালোমানের লেগ স্পিনারের হাহাকার বহুদিনের। টুকটাক এক দুজন আসেন, তারাও বেশিদিন টিকতে পারেন না। লেগ স্পিনার বের হবে কি করে, ঘরোয়া লিগে যে সুযোগই দেয়া হয়না তাদের। লেগ স্পিনারদের মনে করা হয় ‘সাদা হাতি’। তাদের পোষা খুব কঠিন। কোনো একজন লেগ স্পিনার যেমন একাই একটি ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন, তেমনি কোনো ম্যাচে উদারহস্তে রান বিলিয়ে দলকে হারিয়েও দিতে পারেন। সেই ঝুঁকিটা জেনেই দলগুলো খেলিয়ে থাকে লেগিদের। তবে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনো দল এই ঝুঁকিটা নিতে চায় না।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাই এবার নতুন এক বুদ্ধি বের করেছে। আসন্ন বিপিএলে প্রতি দলে একজন করে লেগ স্পিনার এবং তাদের চার ওভার করানো বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে তারা। বিসিবির এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করলেন বাংলাদেশ দলের টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এসময় বিপিএলের মতো আন্তর্জাতিক মানের একটি টুর্নামেন্টকে খেলোয়াড় গড়ে তোলার মঞ্চ বানানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন বাংলার নবাব খ্যাত এই অলরাউন্ডার। সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিককে দেয়া সাক্ষাতকারে সাকিব বলেন, ‘ লেগ স্পিনাররা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলবে, অনেক ওভার বোলিং করবে, ধারাবাহিক হবে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। টি২০ সংস্করণ বা বিপিএল হলো আন্তর্জাতিক মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট। বিপিএলে খেলোয়াড় তৈরি করার জায়গা না। বিপিএলে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা থাকেন। তাদের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম শেয়ার করে অনেক কিছু অর্জন করবেন খেলোয়াড়রা।’

ক্রিকেটের উন্নয়নের বড় একটি জায়গা অবকাঠামোগত উন্নয়ন। দেশের ক্রিকেটের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে সাকিব জানান, ‘শুধু ঢাকা বা চিটাগাং বাংলাদেশের ক্রিকেট না। খুলনা, সিলেট বা অন্যান্য ভেন্যুতে যেসব বিদেশি দলকে নেওয়ার সুযোগ আছে, সেই সিরিজগুলো ওই ভেন্যুতে হতে পারে। এতে ওই জায়গার অবকাঠামোর উন্নতি হবে। শুধু জাতীয় দলকে নিয়ে ফোকাস করা আমার মনে হয় সংগঠকদের মূল কাজ না। খুলনা, রাজশাহী, চিটাগাং, সিলেটে যে স্টেডিয়ামগুলো আছে, সেখানে একটা প্রপার জিম, রানিং ট্র্যাক এবং মানসম্পন্ন ইনডোর সুবিধা গড়ে তোলা।’
মিরপুরের অবস্থাও যে সন্তোষজনক নয় তা নিয়ে খুব খোলামেলা আলাপ করেছেন বাংলাদেশ দলের টেস্ট এবং টি-টুয়েন্টি দলের অধিনায়ক। বিগত ১০ বছর ধরে বলার পরেও নেয়া হয়নি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। সাকিব জানান, ‘গ্রীষ্মকালে ওখানে ১৫ মিনিটের বেশি ব্যাটিং করা যায় না, এত গরম। ১০ বছর ধরে বলার পরও মিরপুরের ইনডোরে এসি লাগেনি।’
