১৮ই অক্টোবর, ২০২১ ইং | ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | সোমবার | সকাল ৮:০৫

মানবতাবিরোধী মামলার আসামির সঙ্গে ‘গোপন বৈঠক’, অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন তুরিন আফরোজ

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক আসামির সঙ্গে ‘গোপন বৈঠক’ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে অভিযোগের ফাইল আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন তুরিন আফরোজ। বুধবার বিকালে ফেসবুকে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন তিনি। তুরিন আফরোজ লিখেছেন,

‘আমাকে নিয়ে একটি অতি উৎসাহী দৈনিক পত্রিকাতে একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হলে সোশ্যাল মিডিয়াতে তা ভাইরাল করে, আমাকে নিয়ে নানা কুৎসা রটনা করা হচ্ছে। এটাও বলা হচ্ছে যে, আমাকে প্রসিকিউটর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য:

১. আমি এখনও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদে বহাল আছি। আমাকে কেউ বরখাস্ত করেনি।

২. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে ৮(২) ধারা অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের একজন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার এখতিয়ার রয়েছে। সুতরাং যে কোনও মামলাতে তদন্ত করার এখতিয়ার আমার আছে। আর তদন্ত করতে গেলে নানা রকম কৌশল অবলম্বন করতে হয়। সুতরাং, আমি তদন্তের স্বার্থে যে কোনও প্রয়োজনীয় কৌশল গ্রহণ করতে পারি।

৩. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমি এপর্যন্ত প্রসিকিউটর হিসেবে যা কিছুই করেছি, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত ছিলেন।

৪. আমাকে নিয়ে সম্প্রতি যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সত্য নয়। যেহেতু বিষয়টি এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখছেন, তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না। তদন্ত শেষ হলে আমি আমার বক্তব্য সর্ব সম্মুখে প্রকাশ করবো। আশা করি, সেই পর্যন্ত আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমালোচকরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করবেন।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তুরিন বলেন, ‘আমার স্ট্যাটাসে আমি যা লিখেছি, সেটাই এখনও পর্যন্ত আমার অফিসিয়াল বক্তব্য। এর বাইরে এখন আমি কিছু বলবো না।’

অভিযোগ সত্য হলে আইন মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নেবে: তুরিন সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ মানবতাবিরোধী এক অপরাধীর সঙ্গে গোপনে আঁতাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা যদি সত্যি হয় তবে মন্ত্রণালয় অবশ্যই পদক্ষেপ নেবে।’

বুধবার (৯ মে) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মাহবুবে আলম আরও বলেন, ‘আমিতো আর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাই না, বা তাদের মামলাও পরিচালনা করি না। কাজেই এ বিষয়ে আমার পক্ষে বলা সম্ভব না।’

এদিকে এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু। এছাড়া, প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, ‘গত ৭ মে চিফ প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে সংশ্লিষ্ট ওয়াহিদুল হকের মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। তারপর গত ৮ মে তাকে প্রসিকিউশনের সব দায়-দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের দুটি চিঠি এবং ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তার (তুরিন আফরোজ) সঙ্গে আসামির কথোপকথনের (গত ১৮ ও ১৯ নভেম্বরের) সিডিসহ যাবতীয় নথি বুধবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে গত ২৪ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠান। ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান।

ট্রাইব্যুনালের সূত্রে থেকে জানা গেছে, গত ১১ নভেম্বর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে করা মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ ওই আসামির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ রয়েছে জানিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে বলেন। এছাড়া, এ বিষয়ে ওয়াহিদুল হকের কাছে প্রসিকিউটর তুরিন মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। পরে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার নজরে এলে প্রসিকিউটর তুরিনকে এ মামলা থেকে প্রাথমিকভাবে অব্যাহতি দেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। পাশাপাশি এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত চলা অবস্থায় তার হাতে থাকা ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য মামলা থেকেও তুরিনকে অব্যাহতি দেন চিফ প্রসিকিউটর। বুধবার (৯ মে) তুরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

Share.

Comments are closed.