২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | ভোর ৫:১৬

তাসফিয়া মৃত্যুরহস্য এর কিনারায় পুলিশ, আরও ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

 

চট্টগ্রামের সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসফিয়া আমিনের মৃত্যুরহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে তদন্তকারী পুলিশ সদস্যরা। সেদিনের আরও কয়েকটি সিসি টিভির ফুটেজ হাতে পেয়েছে পুলিশ। সেগুলো পর্যালোচনায় বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত বেরিয়ে এসেছে। এখন অপেক্ষা ভিসেরা রিপোর্টের। এটি পেলেই তাসপিয়া আত্মহত্যা করেছে, নাকি হত্যার শিকার তা জানা যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, নগরীর চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে তাসফিয়া আর বাসায় ফিরে আসেনি।

ভিডিও ফুটেজগুলো পর্যালোচনা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, তাসফিয়া আমিনকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে কারা নিয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে, তারও তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। কিন্তু, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট (ভিসেরা ও সিআইডি) হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না।

এ বিষয়ে সিএমপির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (কর্ণফুলী জোন) মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। ঢাকা থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই সব কিছু জানানো হবে।

নতুন করে তাসফিয়ার বাসার সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ১ মে বিকেল পাঁচটা ২০ মিনিটে বাসা থেকে বের হয় তাসফিয়া। এরপর আর ফেরেনি। বাসার নিরাপত্তারক্ষী লোকমান হোসেনও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একই তথ্য দিয়েছেন

এরপর রেস্টুরেন্টের সামনে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তাসফিয়াকে তুলে দিয়ে আদনান আরেকটি সিএনজি অটোরিকশায় তার পিছু নেয়।

সন্ধ্যা ছয়টা ৪৮ মিনিটে ওআর নিজাম রোডে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাসফিয়ার বাসার গলির খানিক সামনে ধীরগতিতে চলছিল সিএনজি অটোরিকশাটি। বাসায় যেতে হলে ওয়েলফুড রেস্টুরেন্টের সামনের পথ পাড়ি দিয়ে মেডিকেল সেন্টারের গলি দিয়ে ঢোকার কথা। কিন্তু, সে পথে যায়নি তাসফিয়াকে বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাটি। একই সিএনজি অটোরিকশাতে রাত আটটা ১০ মিনিটে তাসফিয়াকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতপাড়ে দেখা গেছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, যতটুকু জেনেছি তাসফিয়ার কাছে কোনো টাকা ছিল না। তাহলে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া কে দিল? পুলিশের ধারণা, চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে অবস্থানকালে তাসফিয়ার আঙুলে একটি সোনার আংটি দেখা গেছে। কিন্তু, মরদেহ উদ্ধারের সময় সেটি পাওয়া যায়নি। এমনকি সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটিও পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২ মে স্থানীয়রা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে একটি লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অজ্ঞাত লাশটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনেরা লাশটি তাসফিয়ার বলে সনাক্ত করেন।

সুরতহাল রিপোর্টে মরদেহের এক চোখ উপড়ে ফেলা, অপর চোখ নষ্ট করে দেয়া ছাড়াও নাক-মুখ থেঁতলানো, পিঠ, বুক এবং নিতম্বে নির্যাতনের ছাপ পেয়েছে পুলিশ। তার বুকের মাঝেও নখের দাগ রয়েছে।

Share.

Comments are closed.