ভারতের একটি প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজারভার
ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করার পর বিএনপির এক নেতা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি যদি ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের শ্রদ্ধা না থাকে তাহলে দুটো দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এর আগে এই প্রতিষ্ঠানটি তার এক প্রতিবেদনে বলেছে, আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন দলের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাকে ভারতে অনেকে উদ্বেগের সঙ্গে দেখেন।
ভারতীয় গবেষকরা আরো বলছেন, এই নির্বাচন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে। আবার বলা হয়েছে, নির্বাচনকে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
এর প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলছেন, তাদের বিশ্বাস জনগণের মনোভাব বিবেচনায় নিয়ে ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা বরং তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছেন। তা না হলে দু’দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
“তাদের যদি নিরপেক্ষতার অভাব থাকে তাহলে দু’দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন হবে না। এদেশের মানুষের প্রতি যদি ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের শ্রদ্ধা না থাকে তাহলে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তিনি বলেন, “যে দল বা গোষ্ঠী মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে তাদের ওপর আস্থা রেখে যদি ভারত এগুতে চায় তাহলে দু’দেশের সম্পর্ক ক্ষতির দিকে যাবে।”
কিন্তু আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি আমলের কথা বিবেচনায় নিলে প্রতিবেশী দেশের তরফ থেকে এধরনে চিন্তা ভাবনা আসাটা অমূলক কিছু নয়।
তিনি বলেন, “বিএনপি আমলে বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদের উত্থান ঘটেছিলো ও বিশেষ করে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছিলো। স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিবেশী রাষ্ট্রে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও উগ্র মৌলবাদীদের বিস্তার হলে তার প্রভাব প্রতিবেশীদের ওপর পড়বেই। সেটি বিবেচনায় নিয়ে কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করলে সেটা অমূলক নয়।”
তবে ওই বিশ্লেষণে বাংলাদেশে সংসদীয় রাজনৈতিক দল দুর্বল হয়ে ইসলামী গোষ্ঠীর শক্তিশালী হয়ে ওঠা কিংবা পরিস্থিতি খারাপ হলে ফিরে আসতে পারে সেনা শাসনও-এমন যেসব আশংকার কথা বলা হয়েছে তার সঙ্গে একমত নন আওয়ামী লীগের এই নেতা।বিবিসি
