বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়েছেন মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী উইন
মিয়াট আয়ে।
মিয়াট আয়ে।বুধবার উখিয়ায় কুতুপালং ক্যাম্পে যাবার সময় রাস্তায় বিক্ষোভ করার চেষ্টা করে রোহিঙ্গারা। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তখন জড়ো হওয়া রোহিঙ্গারা বলতে থাকেন, আমাদের নির্যাতন করে, হত্যা করে, ধর্ষণ করে পাঠিয়ে দিয়েছে। শরণার্থী শিবিরে কয়েকজন রোহিঙ্গার সাথেও কথা বলেন মিয়ানমারের মন্ত্রী। সেখানেও রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবার কথা বলেন তিনি। এতে রোহিঙ্গাদের বিক্ষুব্ধ হতে দেখা যায়। কারণ তারা বাঙালি নয় রোহিঙ্গা পরিচয়ে মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে প্রথমবারের মতো দেখতে এসেছেন মিয়ানমারের উচ্চ পর্দস্থ মন্ত্রী উইন মিয়াট আয়ে। বেলা ১১টায় মিয়ানমারমন্ত্রী কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের ডি-৫ ব্লকের আইওএমের হাসপাতালে মিয়ানমার সামরিক জান্তা কর্তৃক নির্যাতিত ২২ জন পুরুষ ও ১২ জন নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে আগের সেই পরিবেশ আর নেই। সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য ৩০টি ক্যাম্প নির্মাণ করা হয়েছে। ক্যাম্পে প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের কিছু দিন রাখার পর নিজ বাড়ি ঘরে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গারা যাতে সেখানকার অধিবাসীদের মতো চলাফেরা করতে পারে সে ব্যবস্থাও করা হবে। রোহিঙ্গারা জীবন-জীবিকার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। তাদের ছেলে/মেয়েদের পড়ালেখার জন্য স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ নির্মাণ করে দেয়া হবে। তবে প্রত্যাবাসনের আওতায় ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রথমে এনভিসি কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। পরে তাদের নাগরিকত্ব সনদসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে মিয়ানমারের সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পূর্নবাসনমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি কুতুপালং ক্যাম্পে পৌঁছলে সেখানে অপেক্ষমাণ কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম তাদেরকে স্বাগত জানান। পরে ক্যাম্প ইনচার্জের সম্মেলন কক্ষে উভয়পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার আহবান জানান তিনি।
এ সময় কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার ড. ইকবাল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী, সহকারি পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) চাই লাউ মার্মা সহ সরকারি-বেসরকারি ও এনজিও’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
