কুয়াকাটা সৈকতে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে ডলফিন জাতীয় জলজ প্রাণীর মৃতদেহ। শিয়াল, কুকুর তাদের খাবার হিসেবে খাচ্ছে মরা এসব প্রাণীর দেহ। আবার এগুলোর দেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে গঙ্গামতি সৈকত এলকায়।
৪-৫ দিন আগে মরা এ প্রাণীগুলো জোয়ারে ভেসে এসে বালুতে আটকা পড়েছে বলে স্থানীয় জেলেরা ধারণা করছেন। কুয়াকাটা সৈকতের লেবুর চর, ঝাউবন, গঙ্গামতি কাউয়ারচর এলাকার জেলের সাথে কথা বললে তারা জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে অন্তত ৫টি শুশুক, ১২টি বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ মরে-পচে এভাবে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে।
গঙ্গামতি এলাকার খুঁটা জেলে আলামিন জানান, রামনাবাদ চ্যানেলের নদীর সংযোগস্থল ও সমুদ্রের মোহনায় অবাধে বিচরণ করে তিমি, ডলফিন ও শুশুক। জেলেদের জালে আটকা পড়ে এগুলো মারা যেতে পারে বলে তার ধারণা।
দেখতে অনেকটা ডলফিনের মতো হলেও এগুলো সেটেশান নামক প্রজাতি প্রাণী বলে জানান পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. সুলতান মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘এগুলো তিমি, ডলফিন ও পরপয়েসরা মাছ নয়, এরা সেটেশান নামক প্রাণীগোষ্ঠী। জীবনের পুরো সময়টা পানিতে কাটালেও মানুষের মতো বুদ্ধিমান ও সামাজিক প্রাণী। বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। মায়ের গর্ভে বাচ্চা বেড়ে ওঠে এবং বাচ্চা প্রসব করে। বাচ্চাদের দুধ পান করায় এবং জীবন যাপনে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত লালন পালন করে। জলজ ওই সব স্তন্যপায়ী প্রাণী মানুষের প্রতি যত্নশীল। জেলেদের সঙ্গী হয়ে হাঙরের আক্রমণ থেকে রক্ষা এবং সমুদ্র থেকে মানুষকে উদ্ধার করতে সহায়তা করে থাকে।’
তিনি বলেন, সেই মানুষের অসচেতনতায় তাদের দিয়ে বিলুপ্তি হচ্ছে ওই সব জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী। এসব সেটেশানরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন দ্বারা রক্ষিত। এদের ধরা, ক্রয়-বিক্রয় অথবা মেরে ফেলা আইনত দণ্ডনীয়।
তবে এ প্রাণীগুলো ব্যবস্থাপনার জন্য বন বিভাগের কাছে নেই বলে স্বীকার করেছেন গঙ্গামতি বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাফর উল্লাহ।
এদিকে কলাপাড়া উপজেলা জেলে ফিশিং ট্রলার মাঝি সমবায় সমিতির সভাপতি জেলে নুরু বলেন, ‘ডলফিন ও শুশুকদের গভীর সমুদ্রে দেখা মেলে। সমুদ্র উত্তাল ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হলে তারা জেলেদের আগাম বার্তা দেয়। ওইসব প্রাণীর সংকেত পেয়ে জেলেরা উপকূলের কাছাকাছি আসতে শুরু করে।
ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেসন সোসাইটির প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দ্রুতগামী সেটেশানরা সমুদ্রের উপরিভাগে অক্সিজেন নিতে এসে জেলেদের জালে আটকা পড়ে। স্বাধীনভাবে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা, পানি দূষণসহ খাদ্য সংকটে এসব প্রাণী মারা যেতে পারে। মৃতদেহ উদ্ধার করে সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণীবৈচিত্র্য প্রকল্পকে অনুরোধ করব।
পটুয়াখালী বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অজীত কুমার রুদ্র বলেন, সমুদ্রের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে ওই সব জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী। সেটেশানদের নিরাপদ আবাসস্থল তৈরির জন্য সীমানা নির্ধারণ করা হবে। পায়রা সমুদ্রবন্দরে জাহাজ চলাচল করে। এসব প্রাণীদের চলাফেরায় যাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা না হয়, এ বিষয়টি শিগগিরই বন্দর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
নতুন সকাল- ২২/০৯/২০১৬
