প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২১ সালে য
খন আমরা স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী পালন করবো তখন বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ। ২০২০ সালে আমরা আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করবো, আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত- সমৃদ্ধ দেশ। সেই লক্ষ্য অর্জনে তার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল সোমবার সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০১৮ উপলক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসন আয়োজিত শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিশু-কিশোরদের দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও মমত্ববোধ নিয়ে বেড়ে উঠে বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বে আত্মমর্যাদা নিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবসময় নিজেদের বিজয়ী জাতি হিসেবে চিন্তা করে আত্মপ্রত্যয় নিয়ে চলবে, তোমরাই এ দেশকে গড়ে তুলবে, এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘এই দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসবে। আগামী দিনে এই দেশকে তোমরা গড়ে তুলবে। আমরা যেখানে রেখে যাবো সেখান থেকে তোমরাই দেশকে আরো উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির পুনরুল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অভিভাবক, শিক্ষক এবং মসজিদের ইমামরা আছেন তারা সবসময় একটা বিষয় রক্ষ্য রাখবেন- আপনাদের সন্তানেরা কোনোভাবেই যেনো সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদকে আসক্ত না হয়। তারা যেন মন দিয়ে লেখাপড়া শেখে। মানুষের মতো মানুষ হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল, যেটা জাতির পিতা চেয়েছিলেন—বাংলাদেশের সকল মানুষ উন্নত জীবন পাবে। সুন্দর জীবন পাবে এবং ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। জাতির পিতা মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় হাতে পেয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সময়ের মধ্যে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে তিনি স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা দিয়ে যান।
প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ থেকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী সালাম গ্রহণ করেন এবং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এ সময় গ্যালারিতে মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে হয়। মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে সারাদেশের স্কুল-কলেজ এবং মাদ্রাসা পর্যায়ে শুদ্ধসুরে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যেও পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে আন্তঃশ্রেণী প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, জেলা এবং জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ। ৩টি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ১১০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে প্রধানমন্ত্রী দলগতভাবে স্বর্ণ, রোপ্য এবং ব্রোঞ্জপদক প্রদান করেন। প্রথম স্থান অর্জনকারী দলের প্রত্যেক সদস্যকে একটি করে স্বর্ণপদক, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দলের প্রত্যেক সদস্যকে একটি করে রৌপ্য পদক এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলের প্রত্যেককে বৌঞ্জ পদক দেওয়া হয় অনুষ্ঠানে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথম হয় ঢাকার মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল ও কলেজ, দ্বিতীয় হয় খুলনা বিভাগের সরকারি করনেশন বালিকা বিদ্যালয় এবং যুগ্মভাবে তৃতীয় হয় চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান সদরের মেঘলা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ জেলা স্কুল। মাধ্যমিকে প্রথম হয় ময়মনসিংহ জেলা স্কুল, দ্বিতীয় হয় সুনামগঞ্জের সরকারি এস সি সরকারি বালিকা বিদ্যালয় এবং যুগ্মভাবে তৃতীয় হয় পাবনার স্কোয়ার স্কুল ও কলেজ ও ঢাকার রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ। উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছে ময়মনসিংহের শহীদ নজরুল ইসলাম কলেজ, দ্বিতীয় হয়েছে চট্টগ্রামের কাপাসগোলা সিটি মহিলা কলেজ এবং তৃতীয় হয়েছে ঢাকা বিভাগের বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ পাবলিক কলেজ। পরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শারীরিক কসরত ও ডিসপ্লে দেখেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে শিশু-কিশোর সমাবেশের উদ্বোধন করেন। এরপরই সমবেত কণ্ঠে শুদ্ধসুরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। ।