বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধান বিচারপতির শ্রদ্ধা অর্পণ


প্রধান বিচারপতি বলেন, আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ-রাষ্ট্রের এই তিনটি অঙ্গের পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবলমাত্র একটি দেশ উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে পারে। যেখানে তিনটি অঙ্গের কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকে, সেখানে উন্নয়ন ব্যাহত হয়। এই তিনটি অঙ্গের কাজের মধ্যে যেন সমন্বয় রক্ষা করা যায় সেজন্য আমি সব সময় চেষ্টা করব। তিনি বলেন, বিচারকের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে সততা। তার জবাবদিহিতার জায়গা হচ্ছে নিজের বিবেক। সংবিধান ও দেশের আইন  তার একমাত্র অনুসরণীয়। আর শপথকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে কারো প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে বিচার কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে তার দায়িত্ব। বিচারক যদি শুধুমাত্র তার শপথ অনুযায়ী বিচারকাজ পরিচালনা করেন তাহলে তার জন্য অনুসরণীয় আলাদা আচরণবিধির তেমন প্রয়োজন হয় না। আমি আশা করব আমার সহকর্মী সকল বিচারক সব সময় তাদের শপথের মূল বাণী হূদয়ে প্রোথিত করে জনগণ ও মানবতার কল্যাণে সংবিধানকে সামনে রেখে বিচারকাজ পরিচালনা করবেন। আবার বিচার শুধু করলেই হবে না এমনভাবে বিচার করতে হবে যেন সকল পক্ষই নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করতে পারে যে সুষ্ঠু ও নিশ্চিতভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবিধানের ৯৫(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগের আইন প্রণয়ন অপরিহার্য বলেও জানান তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, মামলা জট আমাদের জন্য বড় সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হবে বারের সক্রিয় সহযোগিতা। বলা হয়ে থাকে বার ও বেঞ্চ একই পাখির দুটি ডানা। একটির অভাবে অন্যটি অচল। তাই মামলা জট আজ শুধু আদালতের একার সমস্যা নয়, এটি বারের জন্যও অস্বস্তির কারণ। মামলার পাহাড় যত জমতে থাকবে আদালতের সাথে সাথে বারের প্রতিও তেমনি বিচারপ্রার্থী মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা কমতে থাকবে। তাই এই সমস্যা সমাধানে বারকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে সেই উদ্যোগে ডিজিটাল বিচার বিভাগের ধারণা আরো গভীরভাবে সম্পৃক্ত থাকবে এবং অচিরেই আমরা তথ্য প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের মাধ্যমে মামলা জট সহনীয় পর্যায়ে কমিয়ে আনতে পারব। তিনি বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্ব ও মহান আত্মত্যাগের ফসল আজকের বাংলাদেশ। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল ৭ কোটি মুক্তিকামী বাঙালিদের। ১৯৭১ সালে ত্রিশ লক্ষ শহীদের তাজা প্রাণের রক্ত নহর আর দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের মূল্যে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ লাভ করে আমি ধন্য ও গর্বিত।

বিচারকাজ পরিচালনা শেষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এরপর বিকালে সাভারে গিয়ে জাতীয় জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। এ সময় আপিল বিভাগের অপর তিন বিচারপতি ছাড়াও রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

Recent Posts

১৯০টি দেশে মুক্তি পাচ্ছে ধানুশের নতুন সিনেমা

অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তামিলের জনপ্রিয় তারকা ধানুশের সিনেমা। বহুল প্রতীক্ষিত এ সিনেমার নাম ‘জগমে…

6 months ago

এবার ঝড় তুলেছে সালমানের ‘দিল দে দিয়া’

অনেক প্রতীক্ষার পর অবশেষে গত ২৬ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে সালমান-দিশা জুটির বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রাধে…

6 months ago

৩২ বছর পর সিনেমায় সালমানের চুমু!

প্রভুদেবা পরিচালিত এবং সালমান খান অভিনীত ব্যাপক আলোচিত সিনেমা ‘রাধে’র ট্রেইলার মুক্তি পেয়েছে বৃহস্পতিবার (২২…

6 months ago

নেটফ্লিক্সের ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমছে

জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের…

6 months ago

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

সিরিজের প্রথম টেস্টে সমানে সমান লড়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।…

6 months ago

২৪ ঘণ্টায় ৭৮ জনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় দেশে…

6 months ago