সোমবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর
খানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে আদালত ওই ঘটনা সংশ্লিষ্ট লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম, ওসি মো. শাহজাহান এবং দুই এসআই হেলাল খান ও ওয়াসীমকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
আদালতে বাদী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ইউএনও ও পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ফারজানা শারমিন ও আইনজীবী মকবুল আহমেদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।
গত বছরের ১৩ অক্টোবর রাতে লোহাগাড়ার মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। পরদিন একটি ফৌজদারি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশের জব্দ তালিকায় ১৩ অক্টোবর রাত নয়টায় বেলালের কাছ থেকে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ইউএনও পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৪ অক্টোবর দুপুরে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় বেলালকে আট মাসের জেল দেন।
এরপর ‘সাজানো’ ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন।
রিটে আবেদনে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দেয়া সাজা কেন বাতিল করা হবে না, এ আদালতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং বেলাল উদ্দিনকে ২০ লাখ টাকা কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়।
রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত গত ১৪ জানুয়ারি লোহাগাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম, ওসি মো. শাহজাহান, দুই এসআই হেলাল খান ও ওয়াসীমকে তলব করেন হাইকোর্ট।
এরপর গতকাল রোববার মামলার শুনানিতে আদালত সংশ্লিষ্টদের ভর্ৎসনা করেন। এ সময় আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিকে সাজা দেয়ার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কিভাবে অন্ধ থাকেন? পুলিশ থাকতে পারে, তা না হয় বুঝলাম! কিন্তু, ১৩ তারিখে (২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর) আটক করে তারপর জেলখানায় নিয়ে পরদিন (১৪ অক্টোবর) ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয় কী করে?’
আদালতে বাদী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ইউএনও ও পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ফারজানা শারমিন ও আইনজীবী মকবুল আহমেদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।
