২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | ভোর ৫:৩৭

রোহিঙ্গা সংকটের সুযোগে সংঘাত ও অশান্তি করলে কঠোর ব্যবস্থা -সংসদে প্রধানমন্ত্রী

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +
  1. প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ দেশে অশান্তি, উসকানি কিংবা সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করলে জড়িত এবং উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে সরকার সম্পূর্ণ সজাগ ও সতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাস করে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে চলতে চায়। গতকাল বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ব্যর্থতার নেত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যিনি (খালেদা জিয়া) সব কাজেই ব্যর্থ, তিনি তো অন্যের সব কাজে ব্যর্থতাই দেখবেন। কাজেই তার (খালেদা জিয়া) বক্তব্য আমি ধর্তব্যে নেই না। রোহিঙ্গা সমস্যা দেখতে বিশাল বহর নিয়ে খালেদা জিয়ার কক্সবাজার যাত্রা ও কিছু অযাচিত মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের গ্রামে একটা প্রবাদ প্রচলিত আছে- ‘পাগলে কি না কয়, ছাগলে কি না খায়’।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যিনি (খালেদা জিয়া) দেখেও দেখে না, তাকে দেখাবার কিছু নেই। উনার সব কাজেই তো ব্যর্থতা। নির্বাচন ঠেকানোর নামে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন, কিন্তু জনগণ সেটা ঠেকিয়ে দিয়েছে। এমন বহু ব্যর্থতার ইতিহাস বিএনপি নেত্রীর আছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার সরকার সকল প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সব দেশ বাংলাদেশের এমন মানবিক অবস্থানের প্রশংসা করেছে। সেই সঙ্গে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা যাতে স্বদেশে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য বিশ্ববাসী জোরালোভাবে তত্পর রয়েছে।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর আশ্রয় নেওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এটা ঠিক, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ার ফলে বন ও পাহাড়ি অনেক গাছপালা নষ্ট হয়ে গেছে। দৃঢ়কণ্ঠে তিনি বলেন, ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও খাদ্য দেওয়া হচ্ছে। সেখানে মাত্র ১৫ হাজার মানুষকে সহযোগিতা করতে পারবো না- এতোটা দৈন্যতায় সরকার পড়েনি।
সরকার দলীয় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যার উপরে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেছি। জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারসহ বরেণ্য বিশ্বনেতাগণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর চালানো নির্যাতনের নিন্দা জানিয়েছেন এবং রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধানে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলের জোর সমর্থন আদায়ে সফল হয়েছে।
১৩ ডিগ্রি ও ২৭ পুরস্কার অর্জন
সরকারি দলের সদস্য সেলিনা বেগমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, গত আট বছর এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদসহ সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব দায়িত্বশীল পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মোট ৪০টি ডিগ্রি ও পুরস্কার সরকার প্রধান ও রাষ্ট্র পেয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি ডিগ্রি ও ২৭টি পুরস্কার রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ আজ একটি সম্মানজনক ও উচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যুতের বর্তমান স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভসহ ১৫ হাজার ৮২১ মেগাওয়াট
সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমানে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ক্যাপটিভসহ ১৫ হাজার ৮২১ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।
Share.

Comments are closed.