ঢাকার বাড্ডায় বাবা-মেয়ে হত্যা মামলায়
বেগমের প্রেমিক শাহিন মল্লিককে চারদিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ শনিবার ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসিন আহসান চৌধুরী এ আদেশ দেন।এর আগে বিচারক জানতে চান শাহিন কিছু বলবেন কি না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আদালতকে বলেন, ‘আরজিনা এবং আমি পাশাপাশি থাকার কারণে দুজনের সম্মতিতে আমাদের মাঝে একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথমে আরজিনা আমাকে প্রস্তাব করে। একপর্যায়ে আরজিনা বাসা থেকে তার বাবার বাড়ি চলে যায়। দুই মাস পর সে আবার জামিলের সংসারে ফিরে আসে।’
শাহিন বলেন, ‘আরজিনার পরিবার আমাদের সম্পর্কটা মেনে নিতে পারেনি। এ কারণে আরজিনা আমাকে বলে, সংসার করতে চাইলে আগে জামিলকে খুন করতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী আমি আমার এক বান্ধবীকে দিয়ে একটি ফার্মেসি থেকে ঘুমের ওষুধ আরজিনাকে এনে দিই।’আরজিনার প্রেমিক বলেন, ‘আরজিনা সেই ঘুমের ওষুধ করলার তরকারির সঙ্গে মিশিয়ে জামিলকে খাওয়ায়। জামিল ঘুমিয়ে পড়লে আমি তাকে কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করি। জামিলকে মারার দৃশ্য নুসরাত দেখে ফেলায় তাকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলি।’
শাহিন বলেন, ‘আমি তাদের মারতে চাইনি। হঠাৎ একটা এক্সিডেন্ট (দুর্ঘটনা) হয়ে গেছে। জীবনে প্রথম এমন কাজ করেছি। জীবনে আর এমন কাজ করব না।’এদিকে, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আরজিনা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ২ নভেম্বর সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ময়নারবাগের ৩০৬ নম্বর পাঠান ভিলার তৃতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় জামিল শেখ (৩৮) ও তাঁর মেয়ের নুসরাতের (৯) মরদেহ।
ওই ঘটনায় বিকেলেই নিহত জামিল শেখের ভাই মো. শামীম শেখ বাদী হয়ে বাড্ডায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহত জামিলের স্ত্রী আরজিনা বেগম (৩০) ও ওই বাসায় সাবলেট থাকা শাহিন মল্লিককে (২৬) আসামি করা হয়।
