২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | ভোর ৫:৩৮

আমার সাজা হবে এবং আমাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হবে -আদালতে খালেদা জিয়া

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

 

গতকাল বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে বিএনপি চেয়ারপার্সন আদালতে এ বক্তব্য তুলে ধরেন। পরে তার সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে আত্মপক্ষ সমর্থনে অসমাপ্ত বক্তব্য রাখার জন্য ৯ নভেম্বর দিন ধার্য করে দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান। বকশিবাজারের কারা অধিদফতরের মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে গত ১৯ অক্টোবর খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থনে প্রথম বক্তব্য পেশ করেন। গতকাল তৃতীয় দিনের মত বক্তব্য উপস্থাপন করেন তিনি।
এদিকে অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় স্থায়ী জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন না-মঞ্জুর করেছে আদালত। এ সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট রেজ্জাক খান, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট এম আমিনুল ইসলাম এবং দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল উপস্থিত ছিলেন।
ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা:বিচারকের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, শেখ হাসিনার হাতে কোনো এক জাদুর কাঠি আছে। সেই জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি, অনিয়ম ও চাঁদাবাজিসহ সকল মামলা, তিনি সরকারে আসার পর একে একে উঠে গেলো অথবা খারিজ হয়ে গেলো। আমাদের আর কারো হাতে তেমন কোনো জাদুর কাঠি নেই। কাজেই একই সময়ে আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো একের পর এক সচল হয়েছে ও গতিবেগ পেয়েছে। হয়েছে নতুন নতুন আরো মামলা।’ তিনি বলেন, ‘দেশে কতো গুরুত্বপূর্ণ মামলা বছরের পর বছর ধরে চলছে। কতো মামলা ঝুলে আছে। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলো পেয়েছে রকেটের গতি। যেন কেউ পেছন থেকে তাড়া করছে, শিগগির শেষ করো। তড়িঘড়ি করে একটা রায় দিয়ে দাও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। কেন, কোন উদ্দেশ্যে এবং কিসের জন্য এতো তাড়াহুড়া? এই তাড়াহুড়ায় কি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে? নাকি ন্যায়বিচারের কবর রচিত হবে?’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাদের হাতে জাদুর কাঠি থাকলেও আমরা বলতাম না, মামলা প্রত্যাহার করেন। আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করতাম। এখনো আদালতের কাছে কেবল ন্যায়বিচারই প্রত্যাশা করছি। আশা করি, সকল প্রভাবের উর্ধ্বে উঠে আমাদের প্রতি আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার করা হবে। ন্যায়বিচারের কথা জোর দিয়ে এত বারবার আমি বলছি, এর কারণ আছে। কারণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে কি-না সে ব্যাপারে দেশবাসীর ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। আমরাও শঙ্কিত।’
বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘আপনি (বিচারক) জানেন, এই মামলাসহ আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ চলার সময় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এবং শাসক দলের কোনো কোনো নেতা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। আমাকে অভিযুক্ত করে বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছেন। যেন তারা মামলার রায় কি হবে তা আগাম জানেন? অথবা তারা তাদের বক্তব্যে আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তদন্ত ও বিচারাধীন বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের এহেন অপপ্রচার শুধু ন্যয়বিচারকেই প্রভাবিত করে না বরং তা আদালত অবমাননার শামিল।’
সাক্ষী জেরার আবেদনের শুনানি রবিবার পর্যন্ত মুলতুবি: জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার রাষ্ট্রপক্ষের ১১ সাক্ষীর জেরা চেয়ে খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ গতকাল বৃহস্পতিবার এ শুনানি গ্রহণ করেন। রবিবার পর্যন্ত শুনানি মুলতুবি করেছে আদালত। এদিকে ওইদিন খালেদা জিয়ার মামলার আদালত পরিবর্তনের আবেদনের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানান তার আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। গতকাল খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী।
Share.

Comments are closed.