নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে অং
শ নিলেন ইসির সাবেক কমিশনাররা। সংলাপে অন্য কমিশনারদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দুই সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। বর্তমান সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘অনেক ভারী ভারী কথা শুনেছি। আজ আপনাদের পেয়ে অনেক হালকা অনুভব করছি।’
আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন ভবনে ওই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিভিন্ন দফায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপ করেছে ইসি।
প্রথমবারের মতো নির্বাচন কমিশন তার পূর্বতন কমিশনারদের পরামর্শ নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানায়। আলোচনায় নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ- বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরাও অংশ নেন।
বিদ্যমান পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনাররা।
সংলাপে উপস্থিত ছিলেন দুই সাবেক সিইসি বিচারপতি আবদুর রউফ ও ড. এ টি এম শামসুল হুদা। আমন্ত্রিত ১২ জন সাবেক নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে অংশ নেন সাতজন।
সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাবেক দুই সিইসিসহ একাধিক কমিশনার।
বিচারপতি আবদুর রউফ বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা দিয়ে আর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব নয়। কারণ সরকারি কর্মকর্তারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত।’
এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, ‘যে পরিবেশ পরিস্থিতি আছে, সেটা মেনে নিয়েই নির্বাচন করতে হবে। গত নির্বাচনের মতো এবারও অন্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন বয়কট করলে ক্ষতি হবে। এবার সব রাজনৈতিক দলকেই নির্বাচনে আসতে হবে।’
২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যোগ দেয়নি। এ প্রসঙ্গে সাবেক কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন বিতর্কে কমিশনের দায় নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা অথবা কমিশনের কোনো কাজের প্রতি বিরক্ত হয়ে তারা যে নির্বাচন করেনি তা নয়। সরকার নিয়ে মতপার্থক্য ছিল বলেই ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে তারা আসেনি; এটা স্পষ্ট সবাই জানে।’
রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে সমঝোতার উদ্যোগ নির্বাচন কমিশন নিতে পারে কি না সে বিষয়ে সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, ‘সবাইকে নির্বাচনে আনার উদ্যোগ নিতে পারে নির্বাচন কমিশন। তবে সেই উদ্যোগ যে সফল হবে সেটির নিশ্চয়তা নেই। ফেল করলে নির্বাচন কমিশনের দায় নেই।’
পুরো সংলাপ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে আগামী বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
