টার্মিনাল সংকটে চট্টগ্রামের রাজ
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর, সদরঘাট লাইটারেজ জেটি, ৩টি বাস টার্মিনাল ও অন্যান্য বাসস্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ হাজার ভারী যানবাহন চলাচল করে। মহানগরীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রায় দুই দশক আগে নগরীর বাইরে ৩/৪টি ভারী যানবাহনের সুপরিসর টার্মিনাল গড়ে তোলার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।
বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ গন বলেন গত দুই দশকে নগরীতে ভারী যানবাহনের আনাগোনা ও চাপ দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়েছে। এই চাপ সামাল দিতে চট্টগ্রামে একাধিক বাস ও ট্রাক টার্মিনালের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। এখন প্রতিদিনই বন্দরের কাছে পতেঙ্গার সড়কগুলোতে দেখা যাবে রাস্তার দুই পাশ দখল করে অসংখ্য ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও নানা ধরনের পণ্যবাহী যানবাহন দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৯৫ সালের চট্টগ্রাম মহানগরীর মাস্টার প্ল্যানে শহরের বাইরে ২/৩টি বাস ও ট্রাক টার্মিনালের প্রস্তাবিত স্থান ছিল। অথচ নগরীর উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থাই এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এমনকি ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রণয়ন করেছিল তাতেও কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়সহ শহরের বাইরে খোলা জায়গায় বাস ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি।
বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর এলাকায় ২টি ট্রাক টার্মিনাল এবং বহদ্দারহাট ও স্টেশন রোডের বিআরটিসি’র জায়গায় ২টি বাস টার্মিনাল কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে চালু রয়েছে। ট্রাক টার্মিনাল দু’টিতে ৬/৭শ’ এবং বাস টার্মিনাল দু’টিতে ৫/৬শ’র বেশি যানবাহনের সংকুলান হয় না। এর বাইরে অসংখ্য ভারী যানবাহনকে বিভিন্ন পয়েন্টে সড়কের উপরই অবস্থান করতে হয়।
আন্তঃজিলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রী পরিবহনের জন্য নব্বইয়ের দশকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালটি নির্মাণ করে। যানবাহনের চাপ বাড়লেও এর কোনো সম্প্রসারণ করা হয়নি। রেল কর্তৃপক্ষের ভূমি লিজ নিয়ে কদমতলী এলাকায় বাস মালিকরা একটি বাস টার্মিনাল চালু করে। এখানে স্থানাভাব রয়েছে। এখান থেকে লাকসাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যাত্রীবাহী বাস ছাড়ে। স্টেশন রোডের বিআরটিসি ছোট বাস টার্মিনালটির ভেতরের জায়গা সংস্থাটি নিজেরা ব্যবহার করে। আশেপাশের চত্বর থেকে ঢাকা ও আশুগঞ্জের বাস ছাড়ে। এজন্য বিআরটিসি কর্তৃপক্ষকে ভাড়া দিতে হয়। এখানে স্থান সংকট এতই প্রকট যে এটি প্রতিদিনের যানজটের কারণ।
অন্যদিকে গরিবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকা থেকে ঢাকাগামী এসি বাস ছাড়ার যে জায়গা এটিও নগরীতে যানজটের কারণ। অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড হিসাবে অলংকার মোড়ও ব্যবহূত হচ্ছে। হাটহাজারী সড়কের অক্সিজেন মোড় এলাকায় রাউজান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ইত্যাদি অঞ্চলের বাস রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড গড়ে তোলায় এখানে প্রতিদিন ভয়াবহ যানজট দৃশ্যমান। অন্যদিকে নগরীতে আন্তঃজিলা ট্রাকের জন্য কোনো টার্মিনাল নেই। বন্দরের পানামা ট্রাক টার্মিনালও পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের জায়গা দিতে পারে না। আইনি জটিলতার পর বন্দরের কাছে ভাড়া চুক্তিতে এটি বর্তমানে পরিচালনা করছেন সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন। আগে পরিচালনা করতেন মনিরুজ্জামান নামের একজন। পানামার কাছেই বন্দরের জায়গা লিজ নিয়ে ট্রাক টার্মিনাল পরিচালনা করছে বন্দর ট্রাক মালিক সমিতি। তারা এখানে চট্টগ্রামের যানবাহনই রাখছে। বাইরের যানবাহন এখানে ভাড়ায় রাখার কথা থাকলেও তারা তা দিচ্ছেন না বলে জানা গেছে আরো জানা যায়, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল না থাকার কারণে ও স্থানাভাবে নগরীর কদমতলী ও পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকার রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে। এতে রাস্তা সংকুচিত হয়ে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। এখানে যানবাহন রাখার জন্য ট্রাক প্রতি রাতে ৫০ টাকা ও দিনে ৫০ টাকা সেলামি দিতে হয় স্থানীয় দারোয়ানদেরকে। তাছাড়া এই এলাকাকে ঘিরে বর্তমানে সরকার অনুমোদিত দেড় হাজারের বেশি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির অফিস থাকায় এলাকা দুটি ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনে পরিপূর্ণ হয়ে থাকে। পাশাপাশি মাদারবাড়ি রেল গেট এলাকায় চট্টগ্রাম-বারৈয়ারহাট লাইনের লোকাল বাসস্ট্যান্ড থাকায় এখানে প্রতিদিন ৫০/৬০টি বাস দাঁড়িয়ে থাকে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতর থেকে বর্তমানে প্রতিদিন এলসিএল ও এফসিএল মিলিয়ে আড়াই হাজার কন্টেইনার ও কন্টেইনারের পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয়। এসব পণ্য পরিবহনে প্রাইভেট আইসিডির ট্রেইলার, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসহ দৈনিক ৪ হাজার ভারি যানবাহন যাতায়াত করে। অপেক্ষার সময় যানবাহনগুলো টার্মিনালের অভাবে রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে থাকে। তার উপর সদরঘাট লাইটারেজ জাহাজের জেটিঘাটগুলো থেকে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৮০০ ট্রাকে পণ্য লোড হয়। সেই সঙ্গে নগরীর অন্যান্য বাণিজ্যিক এলাকার পণ্যবাহী ট্রাকে লোড ডেলিভারি ইত্যাদি মিলিয়ে নগরীতে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার ট্রাকের চাপতো আছেই। ২০১২ সালে ঊর্ধ্বতন সূত্র যথাশীঘ্র একটি ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের কথা বলেছিল। কিন্তু পরে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তামিলের জনপ্রিয় তারকা ধানুশের সিনেমা। বহুল প্রতীক্ষিত এ সিনেমার নাম ‘জগমে…
অনেক প্রতীক্ষার পর অবশেষে গত ২৬ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে সালমান-দিশা জুটির বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রাধে…
প্রভুদেবা পরিচালিত এবং সালমান খান অভিনীত ব্যাপক আলোচিত সিনেমা ‘রাধে’র ট্রেইলার মুক্তি পেয়েছে বৃহস্পতিবার (২২…
জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের…
সিরিজের প্রথম টেস্টে সমানে সমান লড়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।…
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় দেশে…