২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | ভোর ৫:২৫

মাথায় হাত খাতুন গঞ্জের ব্যাবসায়ীর আর নাকাল নগরবাসী

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

চট্টগ্রামে মঙ্গলবার সাদিন তেমন বৃষ্টি হয়নি। এরপরও জলাবদ্ধতায় নাকাল চট্টগ্রাম নগরবাসী। বাসাবাড়ি-সড়ক সব পানিতে থইথই। কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমর সমান পানি। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ মঙ্গলবারও ছিল পানির নিচে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন কর্ণফুলী নদীতে কাপ্তাই বাঁধের পানি ছাড়া ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নিচুস্থানে জমে রয়েছে পানি।

খাতুনগঞ্জের বাবসায়িরা বলছেন, গত কয়েকদিনে এই ভোগ্যপণ্যের বাজারে ক্ষতির পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকার বেশি।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। গত কয়েক দিন টানা বৃষ্টির পর আজ সারাদিন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ  জানান, মৌসুমী বায়ু প্রভাবের কারণে সাগরে বাতাসের তীব্রতা বেশি ছিল। আজ সারাদিন তেমন বৃষ্টিপাত না হলেও আকাশে ঘন কালো মেঘের উপস্থিত ছিল। সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ২৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় ভারী বর্ষণের আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জলাবদ্ধতার কারণ সম্পর্কে হারুনুর রশিদ বলেন, গতকাল সোমবার রাত ২ টা ৩৯ মিনিটে প্রথম ভাটা শুরু হয়ে সকাল ৯ টা ০৫ মিনিটে আবার জোয়ার শুরু হয়। ২য় ধাপে দুপুর ২ টা ৫০ মিনিটে আবার ভাটা শুরু হয়ে এখনো চলছে। তবে রাত ৯ টা ৩৬ মিনিটে আবার জোয়ার শুরু হলে আবারও শহরের অনেক নিম্নাঞ্চল পানির তলে ডুবে যাবে।

জোয়ারে পানি বেশি পরিমানে ঢুকছে উল্লেখ করে বলেন, আগে জোয়ার হলে সামান্য পানি ঢুকত কিন্তু এখন শহরের পানি নিষ্কাশন বাবস্থা ভালো না থাকা এবং জোয়ারে অতিরিক্ত পানি প্রবেশের ফলে নগরীতে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। আমরা সতর্কতার জন্য সমুদ্র বন্দর গুলোকে ৩ এবং নদী বন্দর গুলোকে ১ নং সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে নগরীর আগ্রাবাদ, সিডিএ, এক্সেস রোড, শান্তিবাগ, বেপারিপাড়া, ছোটপুল, হালিশহর, ষোলশহর, প্রবর্তক, বাকলিয়া, চকবাজার, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও সব জায়গাতেই হাঁটু থেকে গলা পানি দেখা গেছে। তবে নগরীতে সবথেকে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা গেছে আগ্রাবাদ, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এবং আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকায়। এই রোডে পানি ২ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত উপরে উঠেছে।

আগ্রাবাদ সিডিএ ১ নং রোডের স্থায়ী বাসিন্দা আমিনুল হক মুঠোফোনে জানান, আমরা কার্যত চট্টগ্রাম শহরের একটা দ্বীপে আটকে আছি। নৌকা ছাড়া আমাদের আর কোন যানবাহন নেই। সাধারণ সময়ে এখানে জোয়ারের সময় এই এলাকায় কমপক্ষে আড়াই ফুট পর্যন্ত পানি উঠে।

এদিকে দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ-আসাদগঞ্জে অবস্থার তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। গত তিন দিনের মতো আজকের পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়িরা। আসাদগঞ্জ ও খাতুনগঞ্জের প্রধান সড়কের ওপর ছিল হাঁটুপানি। জলাবদ্ধতার কারণে দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে যাওয়ায় এখানকার প্রায় ৬ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে বলে জানা গেছে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমদ অর্থসূচককে বলেন, গত ৪দিনের জলাবদ্ধতায় এই চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ- আসাদগঞ্জের বাবসায়িদের ক্ষতির পরিমান ৩০০ কোটি টাকা বলে আশঙ্কা করছি। গুদামের মালামাল অনেকটা পানির নিচে ডুবে থাকায় অন্যত্র সরানোও সম্ভব না।

চট্টগ্রামের নেতা কর্মীদের কাছে অনেক সহায়তা চাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার যদি সরাসরি এই চট্টগ্রামের দিকে হস্তক্ষেপ না করে তাহলে এখানে জলাবদ্ধতা কমবে না বরং বাড়বে। আর আমাদের ব্যবসা গুটিয়ে চলে যেতে হবে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে ও এই ভোগ্য পণ্যের বাজারকে রক্ষা করতে হলে চাক্তাই খাল এলাকায় বেড়ী বাঁধ নির্মাণ, কালের মুখে স্লুইসগেট নির্মাণ, খালের গভীরতা বাড়ানো, খাল দখল মুক্ত করা, নতুন তিনটি খালের খনন দ্রুত শেষ করা, পাহাড় কাটা বন্ধসহ নানামুখী পদক্ষেপের কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।

Share.

Comments are closed.