মিরপুরের পল্লবীতে নির্মম নির্যাতনের পর শিশু গৃহকর্মী আদুরিকে মুমূর্ষু
অবস্থায় ডাস্টবিনে ফেলে রাখার ঘটনায় গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ঢাকার ৩ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। প্রায় চার বছর আগে দায়ের হওয়া চাঞ্চল্যকর এ মামলায় আসামি নদীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন বিচারক। জরিমানার ওই অর্থ আদায়ের পর তা নির্যাতিত কিশোরী আদুরিকে দিতে হবে। আর জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে আরও এক বছরের কারাদ- ভোগ করতে হবে নদীকে। মামলার অপর আসামি নদীর মা ইশরাত জাহানকে আদালত খালাস দিয়েছে।
২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারা ও ডিওএইচএস তেলের ডিপোর মাঝামাঝি রেললাইন সংলগ্ন একটি ডাস্টবিনের পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় কঙ্কালসার ও মৃতপ্রায় গৃহকর্মী আদুরিকে (১১) উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার শরীরে অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। মারধর, গরম খুন্তি ও ইস্ত্রির ছ্যাঁকা, ব্লেড দিয়ে শরীর চেরা ও মাথায় কোপের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা শেষে ওই বছরের ৭ নভেম্বর পটুয়াখালী জেলার জৈনকাঠি ইউনিয়নের নিজ গ্রামে ফিরে যায় আদুরি।
ওই ঘটনায় ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পল্লবী থানায় গৃহকত্রী নওরীন জাহান নদী, তার স্বামী সাইফুল ইসলাম মাসুদ, মাসুদের দুলাভাই চুন্নু মীর ও তাদের আত্মীয় রনিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে মাসুদ, চুন্নু মীর ও রনির নাম বাদ দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে তদন্তে নদীর মা ইসরাত জাহানের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় নতুন করে তাকে আসামি করা হয়। মামলার দিনই গ্রেপ্তার করা হয় নদীকে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। জামিনে রয়েছেন তার মা ইসরাত জাহান।
গ্রেপ্তারের পর ওই বছরের ১ অক্টোবর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদুরিকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন নদী। আদুরিও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
এরপর ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদী ও তার মা ইসরাত জাহানকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পুলিশের নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) কুইন আক্তার।এদিকে সাজা প্রাপ্ত নদী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন’নদী বলেন, ‘সাংবাদিকরাই আমাকে ফাঁসিয়েছে। তাদের জন্যই আমার এ সাজা হলো। আমার চেয়ে আরো অনেকেই বড় অপরাধ করেছে। কিন্তু তাদের কোনো সাজা হয়নি
গৃহকর্মী আদুরি আপাতত তাদের ভাষায় ন্যায্য বিচার পেল
Share.
