পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলী একেএম ফখরুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় নিজ কার্যালয় থেকে ফখরুলকে আটক করে দুদক। পরে দুদকের সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২২। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এএনএম বদরুল আলম ২০১২-২০১৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় মোট ২২টি জাহাজের নকশা অনুমোদনের জন্য নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর বিআইডব্লিউটিএ ভবন ১৪১-১৪৩ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার অফিসে আবেদন জমা দেন। দেশে চলাচলকারী যান্ত্রিক নৌযানগুলোর নকশা নৌপরিবহন অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে হয়। প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম ফখরুল ঘুষ না পেলে তিনি নৌযানের কোনো নকশা অনুমোদন করতেন না। নৌযানের আকারভেদে ঘুষের এই হার ওঠা-নামা করতো। নৌযান ছোট হলে ঘুষের দর কম। আর আকার বড় হলে ঘুষের দরও বেড়ে যেত কয়েক গুণ। কিন্তু অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ ১৯৭৬ এর ধারা ৫/ক অনুযায়ী নকশা জমা হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ অনুমোদন দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জাহাজের নকশা অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন সময় জাহাজের আকার ভেদে ৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো নকশা অনুমোদন করতেন না। এজাহারে আরো বলা হয় মো. শরীফ আহমেদের মালিকাধীন এমভি নওফেল লিহান নামীয় নতুন মালবাহী নৌযানের নকশা অনুমোদনের জন্য বেঙ্গল মেরিন সার্ভিসের এ এন এম বদরুল আলম গত এপ্রিলের ১৩ তারিখ আবেদন করেন। নৌযানের নকশা অনুমোদনের জন্য মামলার আসামি প্রধান প্রকৌশলী একে এম ফকরুল ইসলাম ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অপারগ এ এন বদরুল আলম ঘুষ প্রদানে নীতিগত ভাবে সম্মত না হয়ে দুদকের সাহায্য নেন। পরে দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীকে ধরতে দুদকের সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদের নেতৃত্বে একটি টিম গঠন করে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অভিযানের অনুমতি চাওয়া হয়। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে অনুমতি পাওয়ার পর অভিযোগকারী ব্যক্তিকে দিয়ে একটি ফাঁদ তৈরি করা হয়। গতকাল ফখরুল ইসলামের কার্যালয়ে দুদকের লোকজন আগে থেকে উপস্থিত ছিল। দুপুরে নিজ কক্ষে বসে তিনি ঘুষের পাঁচ লাখ টাকা নেন। ভেতর থেকে সংকেত পেয়ে দুদক সদস্যরা ফখরুল ইসলামের কাছ থেকে ওই টাকা উদ্ধার করেন। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের একটি দল আগে থেকে ফাঁদ পেতে ছিল। বেলা দুইটার দিকে অভিযোগকারীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিচ্ছিলেন ফখরুল ইসলাম। এ সময় তাকে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তাকে মতিঝিল থানায় আনা হয়। এ ঘটনায় ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়।
মতিঝিল থানার তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী জানান, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলীকে দুদকের কর্মকর্তারা আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এবিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি দুদকই তদন্ত করবে। মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, আসামিকে এখন মতিঝিল থানা হাজতে রাখা হয়েছে। আগামীকাল (আজ বুধবার) তাকে কোর্টে তোলা হবে। প্রাথমিকভাবে ঘুষ লেনদেনের মামলাটি চলবে। আর আসামির সম্পত্তির হিসাব নিকাশের জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করা হবে। কমিশন অনুমোদন দিলে আমরা সেই বিষয়টিও তদন্ত করবো।