২২শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শুক্রবার | রাত ৪:৫৮

চিকনগুনিয়া টেস্ট এর নামে জমজমাট প্রতারনা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

চিকুনগুনিয়া ভাইরাল জ্বর পরীক্ষার নামে চলছে প্রতারণা। এটিকে পুঁজি করে রোগীদের কাছ থেকে  হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রতারকরা এই জ্বরের কোন চিকিত্সা নেই বলে রোগীদের আতঙ্কিত করছে। ভয় দেখিয়ে অহেতুক পরীক্ষা করাতে প্ররোচিত করছে এবং বাণিজ্য করছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ রোগের সুচিকিত্সা আছে, রোগীদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পরীক্ষারও কোন দরকার নেই। উপসর্গ দেখে চিকিত্সা দেয়া গেলে রোগী এমনিতেই সুস্থ হয়। তবে ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ দেখা গেলে সেক্ষেত্রে পরীক্ষা করাতে চিকিত্সক পরামর্শ দিতে পারেন।

জানা গেছে, একশ্রেণির ক্লিনিক ও চিকিত্সক চিকুনগুনিয়া পরীক্ষার নামে রোগী প্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নিচ্ছে। অথচ চিকুনগুনিয়ার নিশ্চিত পরীক্ষা হয় দেশের দুইটি প্রতিষ্ঠানে। একটি হচ্ছে মহাখালীতে অবস্থিত রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। অন্যটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। এই দুই প্রতিষ্ঠানের বাহিরে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ক্লিনিক্যাল অ্যান্টি বডি টেস্ট করতে দেয় একশ্রেণির ক্লিনিক ও চিকিত্সক। অযথাই পরীক্ষা করিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, চিকুনগুনিয়া পরীক্ষার কোন দরকার নেই, উপসর্গ দেখে চিকিত্সা দিলে রোগী সুস্থ হয়। যেকোন জ্বরের ৫/৭ দিন অতিবাহিত হওয়া ছাড়া অ্যান্টি বডি টেস্ট করানো যায় না। পরীক্ষার নামে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

সমপ্রতি রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া জ্বরের প্রকোপ বেড়ে গেছে। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি হাসপাতালেই চিকুনগুনিয়ার রোগীরা চিকিত্সকের কাছে আসছেন বা ভর্তি হচ্ছেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় চিকিত্সকরা লক্ষণ দেখে চিকুনগুনিয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছেন। অহেতুক পরীক্ষা করানো হচ্ছে।

কোথাও আবার টাইফয়েড, নিউমোনিয়ো ও অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের ক্ষেত্রেও চিকুনগুনিয়ার চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভুল চিকিত্সার সুযোগ থাকছে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, চিকুনগুনিয়ার জন্য এখন যেসব টেস্ট হয় সেগুলোর নাম অ্যান্টিবডি টেস্ট। আমাদের প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাইরে করলে সেগুলো ফলস পজিটিভ আবার কোথাও ফলস নেগেটিভ আসে। সবার জন্য চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষার দরকার নেই। কেবল বৃদ্ধ, শিশু, গর্ভবতী কিংবা যারা অন্য রোগে আক্রান্ত তাদের জন্য চিকুনগুনিয়া টেস্ট প্রয়োজন হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, চিকুনগুনিয়া পরীক্ষার দরকার নেই। তবে ডেঙ্গু জ্বরের সন্দেহ হলে সেটা আলাদা বিষয়। কেউ এই পরীক্ষার নামে রোগীদের হয়রানি করার অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share.

Comments are closed.