২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | ভোর ৫:২৬

পাহারে ধস মানবসৃষ্ট!

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম বলেছেন,  ‘বেশিরভাগ পাহাড় ধস হচ্ছে মনুষ্যসৃষ্ট কারণে। পাহাড়কে পাহাড়ের মতো থাকতে না দিলে ধস নামবেই। যেখানে পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি করা হবে, সেখানে পাহাড় ধস তো হবেই।’

গতকাল মঙ্গলবার সাম্প্রতিক কালের পাহাড় ধসের কারণ চিহ্নিতকরণ ও ভবিষ্যতে করণীয় নির্ধারণে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব কথা বলেছেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘পাহাড় ধস কমাতে একটি শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করতে হবে। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমতি ছাড়া পাহাড়ে একটি কোদালও যাতে না পড়ে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল হক বলেছেন, একটি দীর্ঘমেয়াদী জরিপের মাধ্যমে এর মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এরপর কাজ শুরু করতে হবে। না হয়, তড়িঘড়ি করে কাজ করে সুপারিশ করে দিলে ভালো ফল নাও মিলতে পারে। আর এক পাহাড় বিবেচনায় সব পাহাড় ধসের কারণ দিলে হবে না। এক্ষেত্রে সব পাহাড়ের জন্য আলাদা সুপারিশ তৈরি করতে হবে। কারণ একেক পাহাড়ের গঠন একেক রকম।’

২৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সত্যব্রত সাহার সভাপতিত্বে সভার সঞ্চালনা করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. অর্ধেন্দু শেখর রায়। এতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) সৈয়দা সারোয়ার জাহান, জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

সভাপতির বক্তব্যে সত্যব্রত সাহা বলেন, ভূমি ধসের কারণ চিহ্নিত করে এ সংক্রান্ত করণীয় নির্ধারণে সুপারিশ তৈরি করে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেব। আগে কি হয়েছে, কি হয়নি তা নিয়ে আমি ভাবব না। আমরা ভিকটিমসহ সবার সঙ্গে কথা বলব। আমি সবাইকে নিয়ে এর মূল কারণ খুঁজে বের করবই। যতো দ্রুত সম্ভব সুপারিশ তৈরি করা হবে। এটি সাতদিনের মধ্যেও হতে পারে, ১৫ দিনের মধ্যেও হতে পারে। তবে সাত মাস কিংবা ১৫ মাস হবে না।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কোনোমতেই জনবসতি করতে দেওয়া উচিত না। উচ্ছেদ করতে গেলে কারা বাধা দেয় তাদেরকেই আগে চিহ্নিত করতে হবে। তবেই এক্ষেত্রে সমাধান মিলবে।

যুগ্ম সচিব ড. অর্ধেন্দু শেখর রায় বলেন, আমিও পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ। আমার বাড়ি গারো পাহাড়ের কাছাকাছি। গারো পাহাড়ও অনেক উঁচু। কিন্তু কখনো শুনিনি গারো পাহাড় ধসে পড়েছে। কিন্তু এখানে ধসে পড়ছে। তবে একটা কথা আছে- ওই পাহাড়ে পাহাড়িরা বসবাস করে। তাই যে পাহাড় ধসে পড়ছে তার সঙ্গে যে পাহাড় ধসে পড়ছে না তার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে খুঁজে বের করতে হবে কি কারণে মূলত পাহাড় ধস হচ্ছে।

সভায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক তাদের গবেষণার অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড় ধসের কারণ তুলে ধরেন। সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে রাঙ্গামাটি জেলায় পাহাড় ধসের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেছেন কমিটির সদস্যরা। আজ (বুধবার) কমিটির সদস্যরা বান্দরবান জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন। তদন্তকালে ২০০৭ সালের ১১ জুন পাহাড় ধসে শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির দেওয়া ৩৬ সুপারিশও বিবেচনায় আনা হবে বলে সভায় জানানো হয়।

Share.

Comments are closed.