২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | ভোর ৫:২২

গ্রিক দেবীর এই মূর্তি দেশের কোথাও স্থাপন করা যাবে না–হেফাজত আমির

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +
হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী বলেছেন, ‘গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসারণের মাত্র দুই দিনের মাথায় সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স ভবনের সামনে পুনঃস্থাপন করা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি বলেন, আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনার পরিপন্থী এই বিদেশি ভাস্কর্যকে বাংলাদেশের কোথাও স্থান দেওয়া যাবে না। গ্রিক দেবী থেমিসের এই প্রতীককে চিরতরে পরিত্যাগ করতে হবে। এই ভাস্কর্য; যা জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্থাপিত হয়েছিল, তাকে বাংলাদেশের কোথাও স্থান দেওয়া যাবে না। কিন্তু, আমাদের সব আবেদন এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে থেমিসের পুনঃস্থাপন এটাই প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাকে সরকার বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিচ্ছে না।’ গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির এসব কথা বলেন।

শাহ আহমদ শফী বলেন, ‘থেমিস দেবীর ভাস্কর্য অপসারিত হয়েছে জেনে অসুস্থ শরীরেও আনন্দ পেয়েছিলাম। দেশবাসীর সঙ্গে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছিলাম। কিন্তু মাত্র দু’দিনের মাথায় যখন দেশবাসী পবিত্র রমজানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল, প্রথম রোজার তারাবিহ আদায় করে প্রশান্ত চিত্তে ঘরে ফিরেছিল, তখনই এমন সংবাদে সমগ্র দেশবাসীর সঙ্গে আমরা বিস্মিত হতবাক এবং বাকরুদ্ধ।’

বিবৃতিতে শাহ আহমদ শফী বলেন, ‘থেমিস সুপ্রিম কোর্টের সামনে থাকবে, নাকি পেছনে থাকবে এইটা কোনো ইস্যু কখনো ছিল না। নামাজের সময় কালো কাপড়ে মুড়ে দেওয়া হবে কি হবে না এইটাও ইস্যু ছিল না। ইস্যু ছিল, থেমিস থাকবে কি থাকবে না। এইখানে মধ্যপন্থা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

হেফাজত আমির বলেন, আমরা আমাদের ঈমান ও আক্বিদার জমিনে দাঁড়িয়ে এই ঔপনিবেশিক ভাবাদর্শের বিরুদ্ধেই বলেছি, অথচ সেক্যুলার মিডিয়া আমাদের যুক্তি বারবার উপেক্ষা করেছে। আমাদের এই যুক্তির কথা তাদরেকে বারবার জানানো হলেও তারা তা ছাপায় না। এমনকি আমরা এও বলেছি, দেবী থেমিস আধুনিক রাষ্ট্র ধারণায় বিচার বিভাগের যে অবস্থান, তারও পরিপন্থী। কারণ, থেমিস গ্রিক সংস্কৃতির ঐশ্বরিক আইনের (ডিভাইন ল’) প্রতীক। যে রাষ্ট্র নিজেকে আলাদাভাবে সেক্যুলার বলে পরিচয় দিয়ে নিজের কৌলিন্য জারি করে, সে কিভাবে গ্রিক ঐশ্বরিক আইনের প্রতীককে নিজের বলতে পারে?

এদিকে জয়পুরহাটের বেল আমলার বারো শিবালয় মন্দিরে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী।

Share.

Comments are closed.