২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | ভোর ৫:২৬

অসুস্থ অবসরে যাওয়া শিক্ষকের প্রশ্ন ‘জীবদ্দশায় এ টাকা দেখবত!

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

এভাবেই জিজ্ঞেস করলেন আমাকে । তিনি মাদ্রাসা শিক্ষক ছিলেন ।বছর দেড়েকের মত তিনি আর বেচে নাই।এমনতর বহু শিক্ষকদের দেখবেন শিক্ষা অফিসের সামনে দিনের পর দিন আহাজারি।বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসর নেওয়ার পর বছরের পর বছর অবসর ভাতার অপেক্ষায় থেকে বৃদ্ধ বয়সে অপরিসীম কষ্টে আছেন। তাদের অবসরকালীন সুবিধা দেওয়ার জন্য গঠিত ‘বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড’ এবং ‘বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ নামক প্রতিষ্ঠান দুটি প্রয়োজনীয় টাকার অভাবে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। প্রতি মাসে সারাদেশে গড়ে অবসর নেন পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী। চাহিদা মেটাতে দুই বোর্ডের লাগে মাসে গড়ে ৩৬ কোটি টাকা। আয় মাত্র ১৮ কোটি টাকা।

সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের পেনশন আছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যারা এমপিওভুক্ত তথা সরকারি তহবিলের বেতন পান, তারাই কেবল অবসর ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত। এদের সংখ্যা এখন প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। ২০০২ সালের একটি আইনে এ সুবিধা প্রবর্তিত হয়।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মাসিক বেতন থেকে ৪ শতাংশ হারে কেটে রাখা চাঁদা ও ব্যাংকের মুনাফা থেকে অবসর ভাতার অর্থের জোগান হয়। অবসর ভাতা দিতে প্রতি মাসে প্রয়োজনের অর্ধেক ঘাটতি থাকায় যতজন শিক্ষক-কর্মচারী আবেদন করেন তাদের অর্ধেককে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা জমতেই থাকে। জমতে জমতে এখন আবেদনের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ২০১২ সালে করা আবেদন পাঁচ বছর পরে এখন নিষ্পত্তি হচ্ছে। অবসরে যাওয়ার পর সাড়ে তিন থেকে চার বছর লাগছে টাকা পেতে। সারাজীবন

শিক্ষকতার চাকরি শেষে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের এটাই যৎসামান্য আর্থিক প্রাপ্তি। বয়োবৃদ্ধদের অনেকে গুরুতর অসুস্থ। অনেকে মৃত্যুর আগে ভাতা পান না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৭তম সভায় অবসর বোর্ড নিয়ে সাংসদরা বিশদ আলোচনা করেন। তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বন্ধ্যত্ব ঘুচাতে সেখানে বিশেষভাবে সরকারি বরাদ্দ দরকার।

Share.

Comments are closed.