২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | ভোর ৫:২২

সমকামিতার অপরাধে ২৪ তরুন কারাগারে ৪ জন রিমান্ডে

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

সমকামিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার চার তরুণকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ছাড়া অপর ২৪ তরুণকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ফাইরুজ তাসনীম এই আদেশ দেন।

, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম মেহেদী হাসান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার ১৬ জনকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। অন্যদিকে অপর ১২ জনকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক চার আসামির দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে বাকি ২৪ আসামিকে কারাগারে পাঠাতে নির্দেশ দেন।

রিমান্ডকৃত আসামিরা হলেন শাহাদাত, আরাফাত, মেহেদী ও সিরাজুল।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১০)। গতকাল শুক্রবার সকালে র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, ‘তরুণরা র‍্যাবের কাছে সমকামিতার কথা স্বীকার করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সমকামিতায় লিপ্ত না হওয়ার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়নি। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হবে।’

র‍্যাবের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কিছু তরুণ কমিউনিটি সেন্টারটিতে জড়ো হয়েছিলেন। তাঁদের কাছে কিছু মাদক পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁরা সমকামিতার সঙ্গে জড়িত। ঘটনাস্থল থেকে কনডম ও লুব্রিকেটিং জেল জব্দ করা হয়েছে।

আটক তরুণদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং তাঁদের বেশির ভাগই ছাত্র বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন। ফেসবুক ও মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁরা কেরানীগঞ্জের ওই কমিউনিটি সেন্টারে জড়ো হতেন। এর জন্য কমিউনিটি সেন্টারের মালিককে ১০ হাজার টাকা ভাড়া দেওয়া হয়।

মেজর মনজুর নামের র‍্যাবের আরেক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, ওই কমিউনিটি সেন্টারে মাদক ও কনডম পাওয়া গেছে। আটক তরুণরা সমকামী। সেখানে তাঁরা মিলিত হতে গিয়েছিলেন।

বাংলাদেশে সমকামিতার বিরুদ্ধে বেশ কড়া আইন রয়েছে। সমকামিতার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাও হতে পারে। সমকামিতার এই আইন উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনামলে প্রণয়ন করা হয়। এখন পর্যন্ত আইনটিতে কোনো সংশোধন আনা হয়নি।

২০১৬ সালে রাজধানীতে সমকামীদের একমাত্র পত্রিকা ‘রূপবান’-এর সম্পাদক জুলহাজ মান্নানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় ওই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার একটি শাখা। তবে বাংলাদেশে আল-কায়েদার অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

Share.

Comments are closed.