২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | রাত ৪:৫৮

ঘটনার সময় রেইনট্রি তে অবৈধ মদের ব্যবহার হয়েছিল

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

রাজধানীর বনানীর আলোচিত রেইনট্রি হোটেল থেকে আজ রোববার ১০ বোতল মদ উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। এই মদ উদ্ধারের ঘটনায় স্পষ্ট হয় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার সময় মদের ব্যবহার হয়েছিল। এমনটি জানিয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

অধিপ্তরের সহকারী পরিচালক দিপা রাণী হালদার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের একটি দল আজ আলোচিত চার তারকা হোটেল রেইনট্রিতে অভিযান চালায়। হোটেলের প্রতিটি কক্ষে তল্লাশি করা হলে একটি কক্ষ থেকে ফক্স গ্রোভ ব্র্যান্ডের ১০ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মদ বিক্রির অভিযোগে তদন্তপূর্বক শুল্ক আইন ও মানিলন্ডারিং আইনে পৃথক দুটি মামলার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ওই আবাসিক হোটেলের কোনো বৈধ বার লাইসেন্স নেই। এই আটক থেকে স্পষ্ট হয় যে ধর্ষণের ঘটনার সময় মদের ব্যবহার হয়েছিল। এই তথ্যটি ধর্ষণের মামলার তদন্তকারী সংস্থাকে অবহিত করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬ মে ঢাকার বনানী থানায় একটি মামলা করা হয়। সেই মামলার প্রধান আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ অন্য আসামিরা রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে হোটেলটি। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকরাও হোটেলটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন। ধর্ষণের মামলার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি গতকাল শনিবার হোটেলটি পরিদর্শন করে। এর পর পরই এটিতে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। কিন্তু সেই অভিযানে কিছু পাওয়া যায়নি বলে গতকাল জানিয়েছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গুলশান অঞ্চলের পরিদর্শক ওবায়দুল কবির।

একই দিনে ওই রেইনট্রি হোটেলের কর্মকর্তা ফারজানা আরা রিমি জানিয়েছিলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা হোটেলে কোনো মদের বারের সন্ধান পাননি। তবে এখানে জুসের বার রয়েছে।

এসব বক্তব্যের একদিন পরই আজ রোববার হোটেলটিতে আবার অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান এনটিভি অনলাইনকে জানান, দুপুর ১টার দিকে রেইনট্রি হোটেলে অভিযান শুরু করা হয়। সেখান থেকে ১০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেন শুল্ক  কর্মকর্তারা।

জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় মামলা করেন এক ছাত্রী। মামলার আসামিরা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ। এর মধ্যে সাফাত ও সাদমান সাকিফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তাঁর বান্ধবী ও বন্ধু শাহরিয়ারকে আটক রাখেন। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। বাদী ও তাঁর বান্ধবীকে জোর করে ঘরে নিয়ে যান আসামিরা। বাদীকে সাফাত আহমেদ একাধিকবার এবং বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করেন। আসামি সাদমান সাকিফকে দুই বছর ধরে চেনেন মামলার বাদী। তাঁর মাধ্যমেই ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে সাফাতের সঙ্গে দুই ছাত্রীর পরিচয় হয়।

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সাফাতের জন্মদিনে দুই ছাত্রী যান। সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী তাঁদের বনানীর ২৭ নম্বর রোডের দ্য রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যান। হোটেলে যাওয়ার আগে বাদী ও তাঁর বান্ধবী জানতেন না সেখানে পার্টি হবে। তাঁদের বলা হয়েছিল, এটা একটা বড় অনুষ্ঠান, অনেক লোকজন থাকবে। অনুষ্ঠান হবে হোটেলের ছাদে। সেখানে যাওয়ার পর তাঁরা ভদ্র কোনো লোককে দেখেননি। সেখানে আরো দুই তরুণী ছিলেন। বাদী ও বান্ধবী দেখেন সাফাত ও নাঈম ওই দুই তরুণীকে ছাদ থেকে নিচে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সময় বাদীর বন্ধু ও আরেক বান্ধবী ছাদে আসেন। পরিবেশ ভালো না লাগায় তাঁরা চলে যেতে চান। এই সময় আসামিরা তাঁদের গাড়ির চাবি শাহরিয়ারের কাছ থেকে নিয়ে নেন। তাঁকে খুব মারধর করেন। ধর্ষণ করার সময় সাফাত গাড়িচালককে ভিডিওচিত্র ধারণ করতে বলেন। বাদীকে নাঈম আশরাফ মারধর করেন এবং তিনি প্রতিবাদ করবেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর বাদী ও বান্ধবীর বাসায় দেহরক্ষী পাঠানো হয় তথ্য সংগ্রহের জন্য। তাঁরা এতে ভয় পেয়ে যান। লোকলজ্জার ভয় এবং মানসিক অসুস্থতা তাঁরা কাটিয়ে উঠে পরে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলার সিদ্ধান্ত নেন। এতে মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়।

Share.

Comments are closed.