২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | রাত ৪:৫৭

যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদেরকে শাস্তি পেতেই হবে’প্রধানমন্ত্রী

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

ইয়াবার সঙ্গে জড়িতরা যত ক্ষমতাবানই হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কক্সবাজার থেকে সারা দেশে ইয়াবা সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সে যেই হোক না কেন কঠোর শান্তি পেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারের বদনাম রয়েছে- এখান থেকে নাকি ইয়াবা সারা বাংলাদেশে সরবরাহ হয়। এই ইয়াবা সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদেরকে শাস্তি পেতেই হবে। তাদের কোনোরকম রেহাই দেওয়া হবে না।’

আজ শনিবার বিকেলে কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কক্সবাজার শাখা আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী এখান থেকে একযোগে সাতটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও নয়টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মাদক এক একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। এই মাদকের ছোবলে এক একটা মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায়। এক একটা মানুষ যখন মাদক সেবন শুরু করে সে পৌরুষত্ব হারায়, সে তার চিন্তাশক্তি হারায়, সে অসুস্থ হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করে। কোনো বাবা-মা চায় না যে তার সন্তান এভাবে অকালে মৃত্যুর পথে চলে যাক, এভাবে শেষ হয়ে যাক। কাজেই এই মাদকদ্রব্য থেকে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করার জন্য সমাজের সকল স্তরের জনগণের কাছে আমি আহ্বান জানাব।’

শেখ হাসিনা এ সময় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বাংলার মাটিতে কোনোভাবে চলবে না, চলতে পারে না। এর বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামের নাম নিয়ে কেউ জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস সৃষ্টি করবে এটাকে আমরা বরদাশত করব না। তাই এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের হাত থেকে আমাদের ছেলেমেয়েদের রক্ষা করতে হবে।’

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে উত্তরণে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটা জিনিসই চাই সারা দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন, ওলামা-মাশায়েখ শিক্ষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যাঁরা আছেন এই কক্সবাজারবাসী সবাইকে আমি বলব সারা দেশে আমাদের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫-এর পরে যারা ক্ষমতায় এসেছে, ওই বিএনপি-জামায়াত জোট, এরশাদ, খালেদা জিয়া; যারাই ক্ষমতায় এসেছে কেউ কখনো ভারতের কাছে আমাদের স্থলসীমানায় আমাদের যে অধিকার আছে, স্থলসীমানা চুক্তি যে বাস্তবায়ন করতে হবে, এই কথাটা কখনো বলে নাই। তুলে ধরার সাহসই পাই নাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশাল সমুদ্রসীমা, এই সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের যে অধিকার আছে, এই অধিকারের কথাটা বলার সাহস না জিয়াউর রহমান পেয়েছে, না এরশাদ, না খালেদা জিয়া। কেউ কখনো এই কথাটা ভারতের কাছে তোলে নাই।’

এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিকমানের পর্যটননগরী হিসেবে এই কক্সবাজার গড়ে উঠবে। আপনারা মর্যাদার সঙ্গে সুন্দর জীবনযাপন করবেন। আমরা সেটাই করে দেব। আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে, আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা এতে সভাপতিত্ব করেন।

Share.

Comments are closed.