২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | রাত ৪:৫৬

একই হাসপাতালের বেডে ৫৪ বছর পর মারা গেলেন

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

একই হাসপাতালে টানা ৫৪ বছর ভর্তি থাকার পর মারা গেছেন জেমস মরিস। ফলে তিনিই হাসপাতালে সব থেকে বেশি সময় অবস্থান করা একজন রোগী ছিলেন এমনটাই ভাবা হচ্ছে। বৃটেনের নাগরিক ও সাবেক সেনাসদস্য জেমস ম সময় তাকে ভর্তি করানো হয় নর্থ ল্যাঙ্কাশায়ারের এয়ারড্রিতে অবস্থিত ওয়েস্টার মোফফাত হাসপাতালে। এখানে তার পায়ে অপারেশনের সময় অপারেশন টেবিলেই হৃদযন্ত্রের জটিলতায় (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) আক্রান্ত হন। তারপর থেকে তার চিকিৎসা চলতে থাকে ওই হাসপাতালেই। অবশেষে এপ্রিলের শেষের দিকে ৭৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান। তার আগে তিনি মাত্র তিনটি শব্দ বলতে পারতেন। তার ভাই কার্ল মরিস (৬২) বলেছেন, ওয়েস্টার মোফফাত হাসপতালের একজন স্টাফ বলেছেন, জেমসের চেয়ে বেশি দিন একটানা হাসপাতালে থাকা কোনো ব্যক্তির রেকর্ড তাদের কাছে নেই। কার্ল মরিসের বাস কোটব্রিজে। তিনি বলেন, এতগুলো বছরে তার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ, ভাব বিনিময় করতে পেরেছি। তিনি মানসিক দিক থেকে সুস্থ ছিলেন। তবে সব সময় আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন না। তিনি ভালোবাসতেন এমন মাত্র তিনটি শব্দ উচ্চারণ করতে পারতেন এ সময়ে। সেই শব্দ তিনটি হলো ‘হোম’, ‘পাব’ ও ‘হর্সেস’। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আমরা তাকে ছুটির দিনে নিয়ে যেতাম বৃটেনের বিভিন্ন স্থানে। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ জানতো যে, তিনি ‘পাব’ বা বার কতটা পছন্দ করেন। তাই তারাও মাঝে মাঝে তাকে সেখানে নিয়ে যেতো। জার্মানিতে স্কটিশ রাইফেল রেজিমেন্টে দায়িত্বরত ছিলেন জেমস মরিস। সেকানে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি আহত হন। এতে তার নাক ও উরুর হাড় ভেঙে যায়। উরুতে অপারেশনের সময় তার ব্রেনের কিছু অংশ অসাড় হয়ে পড়ে। ওদিকে ওয়েস্টার মোফফাত হাসপাতালের সিনিয়র চার্জ নার্স হেলেন রায়ান বলেছেন, এ সময়ে জেমস মরিস পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা।
হাসপাতালে ব্যতিক্রমভাবে এত দীর্ঘ সময় কাটানোর পর তিনি অনেকের জীবন ছুঁয়ে গেছেন। তার ছিল আত্মবিশ্বাস। ছিল আদর্শ। এখানে হিদার ওয়ার্ডে ছিলেন তিনি। এ ওয়ার্ডের সবাই তাকে খুব মিস করবেন। ওদিকে ন্যাশনাল হেলথ স্কিমের একজন মুখপাত্র বলেছেন, হাসপাতালে একটানা ৫৪ বছর কাটানো কোনো মানুষের রেকর্ড তাদের কাছে নেই।

Share.

Comments are closed.