হাটহাজারী-অক্সিজেন মহা সড়ক চার লেন হবার পরেও দূর্ঘটনার হার দিনদিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে। এ দূর্ঘটনার কারনে অনেকের সংসারে অন্ধকারের ছাঁয়া নেমে এসেছে। কেউ সন্তান হারিয়ে কেউ পিতা হারিয়ে কেউ মাতা হারিয়ে শূন্যতায় দিন কাটাচ্ছে। হঠাৎ আমচকা ঝড় এসে সবকিছু এলোমেলো করে দেয় মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায়। অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়ক,নাজিরহাট সড়ক ও হাটহাজারী-রাঙ্গামাটি সড়কে গত ৪ মাসে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় অকালেই ঝড়ে গেছে অনেক তরতাজা প্রাণ। রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে হাটহাজারীর সড়ক এ সড়কগুলো এবং অনেকেই মৃত্যুর সাথে দিন গুনছে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আবার অনেকেই পঙ্গুত্ব জীবন নিয়ে তাদের জীবন যুদ্ধ চালাচ্ছেন। অধিকাংশ যাত্রীরা বলেন হাটহাজারী সড়ক যেন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। তাছাড়া অদক্ষ চালকই দূর্ঘটনার প্রধান কারন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সূত্রে জানা যায়, গত ১লা জানুয়ারী মাস থেকে ৩০ শে এপ্রিল মাস পর্যন্ত হাটহাজারী মহা-সড়কে নিহতের সংখ্যা ৭জন ও আহতের সংখ্যা ২৯জন। আহতদের মধ্যে গুরুতর প্রায় ২২জনের কাছাকাছি । গত ৭ই জানুয়ারী হাটহাজারী মেডিকেল গেইট এলাকায় বাসের ধাক্কায় ১জন সাইকেল আরোহী নিহত হয়, নন্দীরহাট এলাকায় মিনিবাস (তরী) মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১,৩ রা ফেব্রুয়ারি এগারো মাইল এলাকায় নসিমন- ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১ও আহত ১, ২০শে ফেব্রুয়ারি এগারো মাইল এলাকায় ট্রাক উল্টে আহত ১, ১৯শে মার্চ মুন্সির মসজিদ সিএনজি অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত ৫, ২৪শে মার্চ রাঙামাটি সড়কের সত্তারঘাট হালদা এলাকায় প্রাইভেট কার সিএনজি সংঘর্ষে আহত হয় ৫জন, ৫ই এপ্রিল চারিয়া বোর্ড স্কুল এলাকায় সিএনজি অটোরিক্সা – বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ ও আহত হয়েছে ৪ জন। ৮ ই এপ্রিল নন্দীরহাট সিএনজি ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সিএনজি অটোরিক্সার সাথে ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ২ও আহত ৩ জন এবং পরেরদিন ৯ই এপ্রিল চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার জিমি বেকারির সামনে পিকআপ-সিএনজির সংঘর্ষে ৪জন আহত হয়। ১৯শে এপ্রিল নন্দীরহাট এলাকায় নিয়ন্ত্রন হারিয়ে প্রাইভেট কারের সাথে সংঘর্ষে ৩জন আহত,২৭শে এপ্রিল রাঙামাটি সড়কের হাটহাজারী সুবেদার পুকুরপাড় এলাকায় মিনিট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে ১ প্রবাসী। সর্ব শেষ ২৮শে এপ্রিল মুন্সির মসসজিদ এলাকায় বাসের ধাক্কায় ১জন পল্লী বিদ্যুৎ শ্রমিক একইদিনে হাটহাজারী – রাঙামাটি সড়কের ভাইঞ্জন ব্রীজে মাইক্রোবাস-মোটর সাইকেল সংঘর্ষে আহত হয়েছে অপর ১ ব্যক্তি । এপ্রিল মাসেই বেশী সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে হাটহাজারী সড়কে। অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া গাড়ী চালানোর কারনে দূর্ঘটনা ঘটছে বলে সচেতন মহল দাবি করেন। সরেজমিনে ঘুরে হাটহাজারীর নন্দীরহাট এলাকা, মুন্সির মসজিদ এলাকা, এগারো মাইল এলাকা, মিরেরহাট এলাকা, চারিয়া বোর্ড স্কুল এলাকা, বুড়ি পুকুরপাড় এলাকা,মোডিকেল গেইট এলাকা, বালুচরা এলাকা, রাঙামাটি সড়কের সুবেদার পুকুরপাড় এলাকা, সত্তারঘাট এলাকা, আলাওল দীঘির পাড় এলাকা সহ বেশ কয়েকটি স্থানে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। কয়েকটি স্থানে রয়েছে ট্যার্নিং
মোড়। এ মোড় গুলোর মধ্যে ও মারাত্মকভাবে দূর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে যাত্রীসাধারন। যাত্রীদের অভিযোগ হাটহাজারী সড়ক নাম্বার বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা ও অবৈধ মোটর রিক্সার দখলে। শতকরা ৭০ভাগ অটোরিক্সা চালকদের দক্ষ প্রশিক্ষণ থাকবে তো দূরের কথা নূন্যতম অভিজ্ঞতাও নেই সড়কে গাড়ী চালানোর। তা ছাড়া অনেক ড্রাইভারের বয়স কম। শিক্ষা জীবন থেকে দূরে থেকে পরিবারের সংসারের হাল ধরতে রিক্সা চালানো ড্রাইভাররাই এখন প্রমোশন নিয়ে সিএনজি অটোরিক্সার চালক বনে যায়। কোনো গাড়ীকে অভারট্যাকিং করা, সড়কে মোড় ঘুরানো সহ অনেকক্ষেত্রেই এসব অদক্ষ চালকরা কিছুই জানেনা। তারা সিএনজি চালকদের থেকে ৩/৪ হাজার টাকা দিয়ে সপ্তাহের মধ্যে গাড়ী চালানো শিখে চালক বনে যায়। হাটহাজারী সড়কের ৮০ ভাগ চালকের বৈধ লাইসেন্স নেই। ট্রাফিক পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে সিএনজি অটোরিক্সা চালায় বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন যাত্রী জানান। তারা আরো জানান, অল্প বয়সের চালকদের লাইসেন্স ছাড়া সিএনজির মালিকগুলো গাড়ীর চাবি তুলে দিচ্ছে বাড়তি পাওয়ার আশায়। গাড়ীর মালিকরাও চালকদের দক্ষতার কোন যোগ্যতা আছে কিনা তা যাচাই করাতো দূরের কথা গাড়ী চালাতে জানলে হয়ে গেছে। তাদের ভূল সহযোগীতার ও অদক্ষ চালকদের কারনেই হাটহাজারীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক দূর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। অকালেই ঝড়ছে তরতাজা প্রাণ আর পঙ্গুত্ব বরন করতে হচ্ছে অনেকেই। প্রশাসনের ভূমিকাও রহস্যজনক বলে অদক্ষ চালকদের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সচেতন মহল দাবি করেন। হাটহাজারী বাসস্টেশন এলাকার মাত্র ১৬ বছর বয়সী সিএনজি চালক হাসানের কাছে তার লাইসেন্স আছে কিনা না জানতে চাইলে উত্তরে সে বলে লাইসেন্স নাই তবে এলাকার এক সিএনজি চালক থেকে প্রশিক্ষন নিয়েছি। লাইসেন্স ছাড়া সড়কে গাড়ী চালাও কিভাবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে সে বলে, অক্সিজেন সিএনজি চালক সমিতি রেজিঃ নং ১৪৪১/১৪৮১ থেকে ৩৩০টাকা দিয়ে একটা টোকেন কিনে গাড়ীর গ্লাসে লাগালে হাটহাজারীর অক্সিজেন এলাকা পর্যন্ত গাড়ী চলাচল করতে পারে। তা ছাড়া ট্রাফিক পুলিশের সাথে মাসিক হিসাবে লেনদেন করেও সড়কে গাড়ী চালানো যায়। দক্ষ অদক্ষ যাচাই না করেই টাকার বিনিময়ে লাইসেন্স বিহীন চালকদের সড়কে উম্মুক্ত করে দেওয়ায় প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই সচেতন মহল ও যাত্রীদের প্রত্যাশা দ্রুতই অদক্ষ লাইসেন্স বিহীন চালকদের আইনের আওতায় আনবে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ করা হোক অদক্ষ চালকদের সড়কে গাড়ী চালানো। হাটহাজারী ট্রাফিক সার্জেন মোঃ রবিউল জানান, চট্টগ্রাম-নাজিরহাট সড়কে বেপরোয়া গাড়ী চলাচলকারী চালকদের ট্রাফিক পুলিশ নজর রাখছে। গাড়ী চালকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ বেপরোয়া গাড়ী চলানো ড্রাইভারদের মামলা দেওয়া হচ্ছে। সড়ক দূর্ঘটনারোধে যানযট নিরসন সহ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ট্রাফিক পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম রাঙামাটি সড়কে হাটহাজারী অংশে দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছেনা!
মোঃআলাউদ্দীন,হাটহাজারী প্রতিনিধিঃ
ফারুক/মুক্তির ডাক /১লা মে
Share.
