২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | রাত ৪:৫৭

স্বপ্নের মাজার নিয়ে সংঘাতের সম্ভাবনা !

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

তিন মাস আগে সামসুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি স্বপ্নের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘কেরামত কেবলাহ হুজুর’-এর মাজার নির্মাণ করেন। এ নির্মাণে তিনি সঙ্গী হিসেবে স্ত্রী রশিদা বেগম, বড় ভাই মতিবার রহমান ও ছোট ভাই মতিয়ার রহমানকে নেন। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের বাধার মুখে পড়েন তারা। পক্ষে-বিপক্ষে গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। লালমনিরহাট পাটগ্রাম উপজেলার বেংকান্দা এলাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দেশের শীর্ষ এক গোয়েন্দা সংস্থা বিশেষ প্রতিবেদনে বিস্তারিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেংকান্দা এলাকায় মাজার নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারিতে সামসুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তার নিজ বাড়িতে টিনশেড দিয়ে লাল কাপড়সহ একটি কবর আকৃতির মাজার নির্মাণ করেন। সামসুল ইসলাম পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। মাজার নির্মাণ সম্পর্কে স্থানীয়দের তিনি জানান, কেরামত কেবলাহ হুজুর তার কবর সংরক্ষণ করে সেখানে তার নামে একটি মাজার নির্মাণ করতে নির্দেশনা দেন। স্বপ্নের নির্দেশনা অনুযায়ী সামসুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও ভাইদের নিয়ে নিজ বাড়িতে টিনশেড দিয়ে মাজার তৈরি করেন। মাজার তৈরির পর সামসুলের চাচা মো. আজিজুল ইসলাম এলাকার ছেলেমেয়েদের জন্য মক্তব চালু করেন। প্রতিদিন সেখানে কায়দা ও আমপাড়া পড়ানো হয়। এছাড়া ওই স্থানে প্রতি শুক্রবার এশার নামাজের পর জিকির ও মিলাদের আয়োজন করা হয়। গত ৫ই ফেব্রুয়ারি মাজার প্রাঙ্গণে এশার নামাজের পর সামসুল ইসলাম ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেন। এ সময় মাইকযোগে কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়া হয়। বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, মাজারটি নিয়ে একই এলাকার বাসিন্দা ও পাটগ্রাম ইসলামী আদর্শ বিদ্যানিকেতনের শিক্ষক শাহীনুর রহমান সিদ্দিকী এবং মাওলানা রাশেদ আলীসহ কিছু লোক সামসুল ইসলামকে এমন শিরক ও নাজায়েজ কাজ না করতে বলেন। এরপর ২১শে ফেব্রুয়ারি কথিত মাজার প্রাঙ্গণে পাটগ্রাম বায়তুল মোয়াজ্জাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মাওলানা মো. সামসুদ্দোহা উজ্জল, বুড়িমারী স্থলবন্দর আলিম মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. ইউনুস আলী ও পাটগ্রাম ওহির আলেম একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কাদেরসহ এলাকার মুসল্লিরা জড়ো হন। ওই সময় তারা সামসুল ইসলামকে তার কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে মাজারটি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সামসুল ইসলাম ও তার সমর্থকরা মাজার সরিয়ে ফেলতে অস্বীকার করেন। ফলে স্থানীয় ওলামা ও মুসল্লিরা চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর মাওলানা শাহীনুর রহমান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে কয়েকজন সামসুল ইসলামের বাড়িতে ও মাজারে অতর্কিতে হামলা চালায় এবং মাজারের লাল কাপড় ও ছাউনি ভেঙে ফেলে। এসময় হামলাকারীরা সামসুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২৩শে ফেব্রুয়ারি মাজারের নামে অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য ওলামা সমাজের পক্ষ থেকে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদনপত্র দাখিল করা হয়। এছাড়া, পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও একটি কপি দেয়া হয়। এর ভিত্তিতে মাজার নির্মাণে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। অন্যদিকে সামসুল ইসলাম ওই স্থানে মাজার নির্মাণের সিদ্ধান্তে অটল আছেন বলে জানা গেছে। সবকিছু পর্যালোচনায় নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাজারটি নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। চলমান বিরোধ যে কোনো সময় সংঘর্ষে রূপ নেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Share.

Comments are closed.