২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শনিবার | রাত ৪:৫৭

ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যে বিব্রত আ.লীগ

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

আওয়ামী লীগনতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটিতে বিএনপির নাম প্রস্তাব নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যে দলের ভেতরেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও। তাদের মতে, বিএনপির প্রস্তাবিত নামের বিষয়ে জানলেও এই নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের কথা বলার দরকার ছিল না। সার্চ কমিটি গঠনের আগেই এ ধরনের মন্তব্যে বিতর্কের জন্ম দেওয়া হয়েছে। বিএনপির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বিতর্কের ইস্যুও। বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও বেশির ভাগ নেতাই এই নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি।

ইসি গঠন নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনেকটা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সার্চ কমিটিতে বিএনটির ‘প্রস্তাবিত’ নাম হিসেবে কেএম হাসানের নাম তুলে আনেন। রবিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনি (খালেদা জিয়া) রাষ্ট্রপতির কাছে কেএম হাসানের নাম প্রস্তাব করেছেন, সেই হাসান সাহেব বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এটা কি নিরপেক্ষ?’ তার এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা আখ্যায়িত করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, রাষ্ট্রপতির কাছে সার্চ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আমরা বিতর্কিত বিচারপতি কে এম হাসান সাহেবের নাম বলে এসেছি। আমার প্রশ্ন, তাহলে কি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ওবায়দুল কাদের সাহেবের একটা গোপন যোগসাজশ আছে? এ কথার উত্তর আমি ওবায়দুল কাদেরের কাছে জানতে চাই।’

ভয়ে ও অস্থিরতায় আওয়ামী লীগ দিশেহারা হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা যদি তার (কে এম হাসান) নাম প্রস্তাব করেও থাকি, তাহলেও তা ওবায়দুল কাদেরের জানার কথা নয়।’

এদিকে, আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দলের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদকের এ মন্তব্যটিকে ভালোভাবে নেওয়া হয়নি। তারা মনে করেন, দলীয় প্রধান যেখানে স্পষ্টই বলে দিয়েছেন, ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা-ই আওয়ামী লীগ মেনে নেবে, সেখানে ওবায়দুল কাদের কথা বলতে গিয়ে বিএনপিকে বিতর্ক সৃষ্টির পথ করে দিলেন।

বিএনপির নেতারাই প্রস্তাবের বিষয়টি ফাঁস করেছেন বলে সোমবার ওবায়দুল কাদের নিজেই এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। এদিন বিকালে পুরনো ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে নিজেদের প্রস্তাবের গোপনীয়তা বিএনপিই ভঙ্গ করেছে।’ আসলে জেলে যাওয়ার ভয়ে বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ দলের তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে ফাঁস করে দেন বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি রাষ্ট্রপতির কাছে কার নাম প্রস্তাব করেছে, সেটা জানার জন্য ভঙ্গ ভবনের সহযোগিতার দরকার হয় না। বিএনপির নেতারাই যথেষ্ট।’

এদিকে সোমবার দুপুরে সচিবালয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সার্চ সমিটির প্রধান হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানের নাম প্রস্তাব করেছে। তা জানতে আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে রাষ্ট্রপতির কাছে বা বঙ্গভবনে যেতে হবে না। বিএনপির মধ্যে অনেক নেতাই আছেন, যারা বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন।’

বিষয়টি নিয়ে বিএনপির মহাসচিবের প্রতিবাদও জোরালো’ নয় বলে দাবি করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যে কে এম হাসানের নাম প্রস্তাব করেনি, তা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি অস্বীকারও করেননি। তার প্রতিবাদের ভাষা অত্যন্ত দুর্বল ‘

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি মনে করি, আওয়ামী লীগও যদি রাষ্ট্রপতির কাছে কোনও প্রস্তাব করে, তাও তার কাছে গোপনীয় থাকাটা বাঞ্ছনীয়। যদিও ওবায়দুল কাদের নিজে থেকে এটা বলেননি বলে দাবি করেছেন, তবু যদি এরকম বক্তব্যের রেকর্ড থাকে, তাহলে বলব, এমন কথা বলা তার উচিত হয়নি।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে যাইনি। এ কারণে এ বিষয়ে আমি জানি না। বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্যও করতে চাই না।’

Share.

Comments are closed.