জেলার খবর

কুষ্টিয়ার বুকে রচিত হলো “একখন্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়”

তাজবীর সজীব:

১৭ই মার্চের মিষ্টি বিকাল। বিভিন্ন বয়সী, বিভিন্ন পেশাজীবীদের আগমনে দিশা টাওয়ার এর মিলনায়তন মুখরিত হতে শুরু করেছে। সূর্য যত পশ্চিমে গড়ালো, মিলনায়তন ততটায় কানাই কানাই পূর্ণ হলো। কে আসেননি? এলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ, শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, বেসরকারী চাকুরীজীবী, উদ্যোক্তাসহ নানান পেশার মানুষ এসেছিলেন স্বপরিবারে। সকলের পেশার ভিন্নতা থাকলেও একটি জায়গায় সকলেই অভিন্ন সেটি হলো সকলেই তারা প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রি। দিশা টাওয়ারের এই মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের সংগঠন(ডুসাক) আয়জিত মিলনমেলায় মিলেছিল শত শত প্রান।

শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তনেরায় আসেননি সাথে এসেছিলেো তাদের জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনি এবং ছেলেমেয়ে। সবমিলিয়ে এ যেন কুষ্টিয়ার বুকে একখন্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ৫ টায় রেজিস্ট্রেশন দিয়ে শুরু, স্যাঙ্কস পর্বের পর শুরু হলো পরিচিতি পর্ব। তারপর পুরুষ, মহিলা ও বাচ্চাদের জন্য আলাদা করে স্পোর্টস আয়োজনের পর সেরে ফেলা হলো রাতের প্রাতভোজ। মনের ক্ষুধা পুরন করতে এরপরের আয়োজন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গানের সাথে ডজন তিনেক বাচ্চাকাচ্চার নাচের ছন্দে বড়রাও কম গেলেন না। এরপর কাঙ্ক্ষিত র্যারফেল ড্র শেষে সংক্ষিপ্ত সমাপনি।

সমাপনি অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও কুষ্টিয়া জেলার মাননীয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জনাব হাসান হাবিব বলেন, সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ডুসাক নামক সংগঠন এর আত্মপ্রকাশ। তিনি কুষ্টিয়ায় কর্মরত সকল প্রাক্তন ঢাবিয়ানদের ডুসাকের সঙ্গে একাত্ম হয়ে থাকবার আহ্বান জানান।
ডুসাক এর সদস্য সচিব, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ ছাদেকুর রহমান তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে ডুসাকের ডাকে অভূতপূর্ব সাড়া দেবার জন্য সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ গ্রাপন করেন। তিনি আরও বলেন, এই সংগঠন সবার, সকলে মিলেই ডুসাক কে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

সবশেষে ডুসাকের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রফিকুল আলম টুকু বলেন, সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব ও ঐতিহ্য সমুন্বত রাখা ও সংগঠনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে শিক্ষাসহ সামাজিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করাও অগ্রাধিকার পাবে।
সব আয়োজনেরই শেষ থাকে। এই প্রানের মিলন মেলারও শেষ হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনেরা ফিরে গেলেন যার যার নীড়ে সাথে নিয়ে গেলেন প্রিয় ক্যাম্পাসের সারথিদের সাথে কাটানো টাটকা সৃতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *