এক্সক্লুসিভ কলাম

সমাজব্যবস্থার ফাঁসি চাই

মাহবুব নাহিদ:

একটা ছোট্ট শিশু জন্মের সাথেই সে কি কিছু বলতে পারে? পারে না!!! তবে কেন তার বাবা-মা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে যে ওকে ডাক্তার বানাবো,এটাই আমাদের সমাজব্যবস্থার সবচেয়ে বড় রং নাম্বার। মানুষের ইচ্ছাকে গলা টিপে হত্যা করার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয় জন্মের পর থেকেই। ছেলেটা ভাববে বড় হয়ে ক্রিকেটার হবো,ক্রিকেটে তার দক্ষতাও ব্যাপক। সারা এলাকায় তার ফুল চন্দন পড়ে। সবাই তাকে বাহবা দেয়,একটা ফাইনাল ম্যাচ জিতিয়ে সবার মাঝে তাক লাগিয়ে দেয়। কিন্তু নাহ! ক্রিকেটার তোমার হওয়া হবে না। তোমার হতে হবে ডাক্তার। জোরপূর্বক বইয়ের গাদার মাঝে ছেড়ে দেয়া হয়। চান্স সে পায়না মেডিকেলে,এখন কি দাড়ায়? যেখানে পাও একটা জায়গায় চান্স পাও। পেলো হয়তো একটা ভার্সিটিতে বড় কষ্টে। সেখানে গিয়েও সে বাজিমাত উপস্থিত বুদ্ধি,বক্তৃতা,আবৃত্তি,অভিনয় থেকে কি করছে না। আর ধীরে ধীরে একজন পেশাগত অভিনেতায় পরিণত হতে থাকে,জাতীয় পর্যায়েও চলে যায় তার গৌরব। কিন্তু এই সমাজব্যবস্থার কোন একটা অংশ বাধ সাধে তার এই প্রতিভায়। লুকিয়ে লুকিয়েও চেষ্টা করে দেখে সে,তবুও তার মনের বিরূদ্ধের সিদ্ধান্তই মেনে নিতে হয়। তবুও থেমে থাকেনা তার সৃজনশীলতার খেলা। লেখায় হাত দেন,সফলের পরে সফল হতে থাকেন,হয়ে যান জাতীয় পত্রিকার নিয়মিত লেখক! তবুও সমাজব্যবস্থা মেনে নিবে না।ওই যে সমাজের একমাত্র পরিচয় বিসিএস কিংবা অন্যান্য সরকারী চাকরী তাকে পেতেই হবে। এটা আবার সময়সাপেক্ষ ব্যাপার কিন্তু সমাজব্যবস্থা তাও মানবে না। সমাজ তাকে বেকার বলে গালি দিবে। অতঃপর ছেলেটা নিজেকে,নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলার দ্বারপ্রান্তে! কেন সে নিজের ইচ্ছামতো নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী আগাতে পারবে না? কেন যা সে চায় না বা পারেনা তার মাঝে ঠেলে দিবে? সমাজ কি প্রত্যেকটা ছেলের ডাক্তার হবার,বিসিএস ক্যাডার হবার নিশ্চয়তা দিতে পারবে? কোনদিন ই না! তবে সমাজ কেন আমাদের অগ্নিকুন্ডে ঠেলে দিচ্ছে?