আন্তর্জাতিক

ফেড-বাংলাদেশ ব্যাংক তুলে নিচ্ছে লেনদেনে কড়াকড়ি

বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে স্বাভাবিক লেনদেনে ফিরতে সম্মত হয়েছে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক এবং বাংলাদেশ ব্যাংক। ফেডারেল রিজার্ভে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার হ্যাক করে হাতিয়ে নেয়ার পর লেনদেনে এ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

ইয়াহু নিউজ জানায়, দু’টি পৃথক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে। তবে কবে নাগাদ লেনদেন স্বাভাবিক হচ্ছে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

বৈশ্বিক আর্থিক লেনদেনের মেসেজিং প্লাটফর্ম সুইফট মে মাসে তাদের সফটওয়্যার ব্যবস্থায় অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের জন্য নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা দেওয়ার পর ফেডারেল রিজার্ভ ও বাংলাদেশ ব্যাংক এ উদ্যোগ নেয়। গ্রাহকদের ব্যবহৃত সফটওয়্যার টুলসের নিরাপত্তা বাড়ানো, কোনো অ্যাকাউন্টে যৌথ লেনদেনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁক ধরা পড়লে তা শনাক্তে নতুন টুলস উদ্ভাবন এবং কোনো পেমেন্টের নির্দেশনা অস্বাভাবিক মনে হলে সতর্ক সংকেত (রেড ফ্লাগ) দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সুইফট কর্তৃপক্ষ।

চলতি সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংক, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এবং সুইফট- এই তিন পক্ষের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক বৈঠকে স্বাভাবিক লেনদেনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে অবগত বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ট এমন একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমায় আসার বিষয়ে একমত হয়েছেন তারা। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

গণমাধ্যমে ব্রিফ করার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই ব্যক্তি বলেছেন, ‘আমরা (দি নিউ ইয়র্ক ফেডারেল ও বাংলাদেশ ব্যাংক) চাই যোগাযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে (শুধু) সুইফট (সিস্টেম) ব্যবহার করতে। যত দ্রুত সম্ভব যোগাযোগ চ্যানেলগুলো স্বাভাবিক করার বিষয়ে আমরা কথাবার্তা বলেছি।’

তবে এ বিষয়ে দি নিউ ইয়র্ক ফেড ও সুইফট (কর্তৃপক্ষ) তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভুয়া নির্দেশনাপত্র ব্যবহার করে সুইফটের কাছে তিন ডজন মেসেজ পাঠিয়ে দি নিউ ইয়র্ক ফেড থেকে ১ বিলিয়ন ডলার হস্তান্তরের চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের একটি ব্যাংকে হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়। এই ব্যাংক থেকে অধিকাংশ অর্থ ক্যাসিনোর মাধ্যমে হাতবদল হয় এবং ফিলিপাইনের অর্থ ব্যবস্থায় মিশে যায়। বাকি অর্থের হদিস মেলেনি।

বিপুল অংকের এ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক ও দি নিউ ইয়র্ক ফেড নতুন পদ্ধতিতে লেনদেন শুরু করে। ঢাকা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ব্যক্তির ভয়েস পরীক্ষা করেই কেবল সুইফটের কোনো মেসেজ (অনুরোধপত্র) ছাড় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দি নিউ ইয়র্ক ফেড অর্থ ছাড়ের আগে তাদের কাছে সংরক্ষিত ভয়েস রেকর্ড পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত দুই বা তিনজন কর্মকর্তার মধ্যে অন্তত একজনকে কল করে।

তবে ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না শর্তে বলেছেন, অর্থ লেনদেনে শুধু সুইফট ম্যাকানিজমে ফিরতে ‘সিস্টেমের উন্নয়নে’ আরো সময় লাগবে।

প্রকৃত লেনদেনে বিলম্ব হওয়ায় দি নিউ ইয়র্ক ফেড চাইছে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করতে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংককে সুইফট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সিস্টেম এখন নিরাপদ। তারা এ-ও বলেছে, এশিয়ার ব্যাংকগুলোকে নিজেদের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভংকর সাহা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি অবহিত নন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিনিধিদল ফেরার পর তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন।

ফিলিপাইনের দি রিজাল কমার্সিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনকে (আরসিবিসি) চুরি হওয়া বাকি অর্থ উদ্ধারে চাপ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদল দি নিউ ইয়র্ক ফেডকে অনুরোধ করে। ক্যাসিনোতে পাচার হওয়ার আগে এ অর্থের বিলিবন্টনে ওই ব্যাংকের চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়।

অর্থ ফেরত পেতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সাহায্য করার জন্য জুলাই মাসে দি নিউ ইয়র্ক ফেড ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন, দি নিউ ইয়র্ক ফেডের হস্তক্ষেপের কারণে আরসিবিসিকে ১ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *