স্বাস্থ্য

স্কিন ক্যান্সারের উপসর্গ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

মেলানোমা, বেসাল সেল কার্সিনোমা, এবং স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমার মত স্কিন ক্যান্সার প্রায়ই ত্বকের পরিবর্তনের মাধ্যমে শুরু হয়। ত্বকের কোষ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেলে ত্বকের ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে ত্বকের ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব। ত্বকের ক্যান্সার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেব আমরা এই ফিচারে।

ত্বকের ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ-

–   ত্বকের ক্ষত

–   ত্বকের আঁচিল

–   শুষ্ক খসখসে ত্বক

–   ত্বকে চুলকানি

–   ঠোঁট ফুলে যাওয়া

–   অস্বাভাবিক ত্বক

–   ত্বকের বৃদ্ধি

–   ত্বক ফুলে যাওয়া

–   মাথার অস্বাভাবিক ত্বক

–   ব্রণ

–   ত্বকের জ্বালাপোড়া

ত্বকের ক্যান্সারের কারণসমূহ-

–   ফর্সা ত্বকের মানুষদের খুব সহজেই সানবার্ন হয় বলে তাদের স্কিন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

–   দিনের বেলায় বেশীক্ষণ সূর্যের আলোয় কাজ করতে হলে এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলে ত্বকের ক্যান্সার হতে পারে।

–   ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে ত্বকের এমন কোন ক্ষতের সৃষ্টি হলে ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

–   পরিবারের কারো ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার ইতিহাস থাকলে পরবর্তীতে তা অন্য বংশধরদের হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

–   একবার ত্বকের ক্যান্সার হয়ে থাকলে তা পুনরায় হতে পারে।

–   অন্য রোগের কারণে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেলে ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

–   রেডিয়েশনের সংস্পর্শে বেশি থাকলে ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

–   নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক যেমন- আর্সেনিকের কারণেও স্কিন ক্যান্সার হতে পারে।

রোগনির্ণয়-

নিজে নিজে ত্বকের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ত্বকের ক্যান্সার নির্ণয় করা সম্ভব। শরীরের উন্মুক্ত স্থান ও পেছনের অংশ পরীক্ষা করুন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। মাথার ত্বকের কোন অস্বাভাবিকতা অনুভুত হয় কিনা দেখতে হবে চুল আঁচড়ানোর সময়। কনুই ভাঁজ করে হাতের করতল ও বাহুতে কোন অস্বাভাবিকতা দেখা যায় কিনা লক্ষ করুন। পা, পায়ের পাতা ও আঙ্গুলের ফাঁকে ভালো করে পরীক্ষা করুন। সাধারণত শরীরের উন্মুক্ত স্থানে যেমন- মুখ, গলা, পিঠ ও হাতে এই ক্যান্সার বেশি হয়ে থাকে। ত্বকের কোথাও কোন অস্বাভাবিকতা লক্ষ করলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। বায়োপসি করার মাধ্যমে ডাক্তার ক্যান্সার হয়েছে কিনা নিশ্চিত হবেন।

চিকিৎসা

সাধারণত অপারেশন ও ঔষধের মাধ্যমে ত্বকের ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হয়।

প্রতিরোধের উপায়

–   দুপুর বেলার সূর্যালোক এড়িয়ে চলুন বিশেষ করে সকাল ১০ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত

–   বাহিরে যাওয়ার সময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন

–   প্রখর আলোয় বাহিরে যাওয়ার সময় ফুলহাতা জামা পরুন

–   ত্বকে নতুন কোন তিল গজালে অথবা পুরনো তিলে হঠাৎ রঙ, আকার বা উপরিভাগে কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা লক্ষ রাখতে হবে। অর্থাৎ ত্বকের কোন অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *